টানা বর্ষণে কবরস্থানে পানি, ভেসে উঠলো মরদেহ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩৮ আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪২

সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। তলিয়ে গেছে শত শত মাছের ঘের। দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে কবরস্থানে পানি ঢুকে ভেসে উঠেছে কয়েক দিন আগে দাফন করা একটি মরদেহ। 

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউনিয়নের বহেরা পোস্ট অফিসের পেছনে আমানউল্লাহ ফাউন্ডেশনের ভেতরে মরদেহ ভেসে ওঠে। এ সময় মরদেহটি সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো ছিল।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন আগে বহেরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫৫) মারা যান। এরপর আমাউল্লাহ ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরে দাফন সম্পন্ন হয়। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কবরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এরপর হঠাৎ মরদেহটি ভেসে উঠতে দেখা যায়।

কুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বলেন, ‘কবর থেকে মরদেহ ভেসে ওঠার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় মরদেহ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কবরস্থানে ভিড় জমাতে থাকে। তবে মৃতের স্বজনরা বাইরে থাকায় স্থানীয়রা আবারও মরদেহ মাটিচাপা (কবর) দিয়েছেন।’

এদিকে গত চার দিন ধরে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার দুপুরের জোয়ারে আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর একটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। তবে রাতেই সেই বাঁধ স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করেছেন।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও হালকা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে একে থেকে দুই ফুটের অধিক উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। ভেসে গেছে শত শত বিঘা মাছেল ঘের। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার জরাজীর্ণ ৩৫টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।   

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, কোথাও বড় ধরনের ভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরায় ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩৫টি পয়েন্ট ঝুকিপূর্ণ। ‌বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টে পর্যাপ্ত জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কিছু এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
মাছ চুরির সন্দেহে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা
হাসপাতালে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২, এখনও ফেসবুকে সক্রিয় প্রধান আসামি
মাদকের টাকা না পেয়ে মায়ের ওপর হামলা, ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ গেলো কাকির
সর্বশেষ খবর
ইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিব
ইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিব
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত ২
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত ২
আমাদের দলের প্রার্থী পাস না করলে সেই ইউনিয়নে কোনও কাজ হবে না: চিফ হুইপ
আমাদের দলের প্রার্থী পাস না করলে সেই ইউনিয়নে কোনও কাজ হবে না: চিফ হুইপ
মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেফতার ৪
মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেফতার ৪
সর্বাধিক পঠিত
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেলো দেশলাই কাঠির প্রতিমা
ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেলো দেশলাই কাঠির প্রতিমা
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই সাজেক ভ্রমণে ৫ শতাধিক পর্যটক
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই সাজেক ভ্রমণে ৫ শতাধিক পর্যটক
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক 
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক