বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের জেরে গলা কেটে লোমহর্ষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ আশেক এলাহীকে হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। বুধবার (১১ অক্টোবর) রাতে তাকে নওয়াপাড়া রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব ৬ এর পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফিরোজ কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ৮ অক্টোবর আনুমানিক রাত ৮টায় চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানাধীন হাজীগঞ্জ বাজারস্থ রোট রেলি অফিস অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাজীগঞ্জ-ফরিদপুর সার্কেল অফিসের সামনে একটি বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিদেশ ফেরত স্বামীকে পরস্পরের যোগসাজশে লোমহর্ষক কায়দায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরই চিৎকার শুনে ওই বিল্ডিংয়ে আশপাশের লোকজন গিয়ে দেখতে পায় স্বামী এমরানের মাথা কোলে নিয়ে চিৎকার করছে স্ত্রী ফারজানা।
নিহত এমরানের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনার আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও ফারজানার প্রেমিক সৈয়দ আশেক এলাহীর সঙ্গে এমরানের বেশ কয়েকবার বাগবিতণ্ডা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আশেক এলাহী এবং ফারজানা আক্তার পরস্পর যোগসাজশে এমরানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন স্বামীকে হত্যার উদ্দেশে আশেক এলাহীকে ফোন করে বাসায় ডাকেন ফারজানা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফারজানা বাসার দরজা খুলে দেয়। পরবর্তীতে আশেক এলাহী ইশারা করলে ফারজানা ও তার সহযোগীরা মিলে এমরানকে পেছন থেকে হাত শক্ত করে টেনে ধরে এবং আশেক এলাহীর কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে এমরানের পেটে, গলায় ও ঘাড়ের পেছনে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পর আশেক এলাহী পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলায় আসামি সৈয়দ আশেক এলাহী (২৮), ফারজানা আক্তার (২৪), মরিয়ম আক্তার স্বপ্না (৩০) ও নাজমা বেগম (৫০) এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি সৈয়দ আশেক এলাহী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাকে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।








