বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোরের সমন্বয়কদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা। রবিবার দুপুর ১টায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ‘রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ও আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
যশোর শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে আয়োজিত সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ওয়াহিদ উজ্জামান জেলার সমন্বয়কদের উদ্দেশে বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের সবসময় টার্গেট করা হয়। তাদের কারা ব্যবহার করে সবাই জানে। এখন সব বিভক্তি ভুলে আমাদের একমাত্র পরিচয় হবে বাংলাদেশি। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপরে নির্ভর করে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এটা দিতে ব্যর্থ হলে সামষ্টিকভাবে এর দায় আমাদেরই নিতে হবে। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
সভায় ছাত্রদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকার সমন্বয়ক আশরেফা খাতুন বলেন, ‘আমরা এসেছি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের মতামত উপদেষ্টামণ্ডলীকে জানানোর জন্য। উপদেষ্টাদের কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে। সেই কারণে আপনাদের বার্তাগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতনে রাজপথে শুধু ছাত্ররাই নয়, দেশের আপামর জনসাধারণ আন্দোলন করেছেন। যারা আমাদের জন্য ঘরে বসে দোয়া করেছেন, তারাও এই গণঅভ্যুত্থানের সারথি। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ করে যাবো, যতক্ষণ পর্যন্ত জনতার ক্ষমতা নিশ্চিত হবে। নির্বাচিত সরকার আসার আগেই রাষ্ট্রের যেসব জায়গায় সংস্কারের প্রয়োজন সেগুলো সম্পন্ন করতে ছাত্র-জনতা একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা চাই না, আবারও নতুন করে কোনও প্রভু ক্ষমতায় আসুক। সিস্টেম পরিবর্তন না হলে সেই সমস্যা থেকেই যাবে। এজন্য সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে।’
সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ানো মতবিনিময় সভায় আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আকরাম হুসাইন, আশরেফা খাতুন, আবু বক্কর খান, ফারহানা ফারিন, যশোরের সংগঠক ইমরান খান প্রমুখ।









