পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডার না পেয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরফুদ্দৌলা ছোটলুকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকালে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সৈয়দ সাবেরুল হক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই ঘটনায় শুক্রবার জেলা যুবদল নেতা হাবিবুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ নভেম্বর যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরফুদ্দৌলা ছোটলুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। এই সিদ্ধান্ত জেলা বিএনপির সদস্য পদসহ সব পদে কার্যকর করা হবে।
এর আগের দিন শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি দলীয় নেতাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। জেলা বিএনপি বিষয়টি নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য মনে করে এবং এর তীব্র নিন্দা জানায়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কতিপয় ঠিকাদার ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বিএনপি যেমন রাষ্ট্রক্ষমতায় নেই, তেমনি টেন্ডার সংক্রান্ত বা দখলদারত্বের মতো কোনও বিষয়ে বিএনপির কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতা দলে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। কাজেই ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বা ঠিকাদারি কাজে কেউ অনৈতিক সুবিধা নিতে চাইলে সে ব্যক্তি দলের যেকোনো স্তরের নেতাকর্মী হোক তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এক বিবৃতিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেছেন, গত ৭ নভেম্বর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছিল; যা অনভিপ্রেত। এটি ডাক্তার সমাজের মধ্যস্থতায় সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২১ এবং ২৮ অক্টোবর যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি (এমএসআর) ক্রয়-বিষয়ক পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডার ডাকা হয়। টেন্ডারে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে শরফুদ্দৌলা ছোটলুও অংশ নেন। কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে টেন্ডার পায় প্যারাগন হারমাইন ও জাজ করপোরেশন নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। পরে তা ঢাকায় অনুমোদনের জন্য পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
টেন্ডার না পাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শরফুদ্দৌলা ছোটলু গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাত-আট জন নেতাকর্মী নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদের কক্ষে যান। সেখানে গিয়েই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। একপর্যায়ে শার্টের কলার ধরে তত্ত্বাবধায়ককে চেয়ার থেকে উঠিয়ে বাইরে আনার চেষ্টা করেন শরফুদ্দৌলা। এ সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেষে শরফুদ্দৌলা ও তার লোকজন তত্ত্বাবধায়ককে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।









