যশোরের চৌগাছায় স্ত্রীকে বেঁধে রেখে জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ জনের নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহত জুয়েল আহমেদ রানা উপজেলা পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মুক্তদহ গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে।
বৃহস্পতিবার রাতে চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন জুয়েলের স্ত্রী মায়া বেগম। মামলার আসামিরা হলেন- মুক্তদাহ গ্রামের নাইলো মন্ডল ছেলে ইদ্রিস ওরফে ইল্লি মন্ডল (৪৫), রফি পাটোয়ারীর ছেলে বাবু পাটোয়ারী (৩৫), ইউনুসের ছেলে কাশেম বাঙ্গাল (৩৫), ইউছুফ আলীর ছেলে আহসান কবির (২৩), মজহারের ছেলে সুমন মন্ডল (৪০), বাবু পাটোয়ারীর ছেলে নাহিদ পাটোয়ারী (২৪), ইদ্রিস ওরফে ইল্লি মন্ডলের ছেলে মুন্না মন্ডল (২৫), মুজিদ মন্ডলের ছেলে আজিজুর রহমান (২৬), সিরাজ মন্ডলের ছেলে সামিনুর মন্ডল (৩৫) ও রফি পাটোয়ারী (৫৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি আহসান কবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ১০ জনের নামে মামলা হয়েছে। এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মোড়ে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী মায়া বেগম (৩৫) আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপি-অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। জুয়েল রানা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের সময়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মারপিট ও মামলা দিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুয়েল এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এলাকায় ফেরেন।
গত বুধবার রাতে পাতিবিলা ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে নানা সমালোচনা করেন। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তদাহ মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালান। তারা জুয়েলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেন। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।









