বাজারে কাঁচা মরিচে ‘আগুন’, ‘এত দাম তো আগে দেখিনি’

যশোর প্রতিনিধি
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০০আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০

দু্ই দিনের ব্যবধানে যশোরের বাজারে কাঁচা মরিচে ‘আগুন’ লেগেছে। বাজারে মানভেদে কেজিপ্রতি ৩০০-৩২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গত দুই দিনে কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। 

রবিবার যশোরের বড়বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজার, রেলগেট বাজার ঘুরে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়া একইসঙ্গে বেগুনসহ বিভিন্ন সবজিতে অব্যাহত রয়েছে বাড়তি মূল্যও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার লাগাতার বৃষ্টি, বাজারে দেশি কাঁচা মরিচের ঘাটতিতে মূলত এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেলগেট বাজারে বাজার করতে আসা নুরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুই দিন আগে ২৪০ টাকা দরে কাঁচা মরিচ কিনেছি। রবিবার ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ক্রেতা বলেন, দুই দিনের মধ্যে দাম কীভাবে দ্বিগুণ হয়ে যায়? এত দাম তো আগে দেখি নাই। এত টাকা দরে কাঁচা মরিচ কেনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব।’

আব্দুর রহমান নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ নেই। যশোরের বাজার এখন পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। বর্ষাকাল না যাওয়া পর্যন্ত মরিচের দাম ঊর্ধ্বগতি থাকবে।’

এদিন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে। উচ্ছে ১২০ টাকা, বরবটি ১০০, কাঁকরোল, ওল, করলা, কচুরলতি, শসা ৮০ টাকা কেজি। পটল, চিচিঙ্গা, ঢেড়স, কচুরমুখি, লাউ বিক্রি হয় ৬০ টাকা কেজিতে। মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলা ৪০ এবং পেঁপে ৩০ টাকা। বিটকপি ৮০ টাকা, টমেটো, গাজর ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। দোকানভেদে আলু বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে।

একাধিক বিক্রেতা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টিতে যশোর ও এর বিভিন্ন উপজেলার সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বাইরের জেলাগুলো থেকেও সবজির আমদানি কমেছে। এতে দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে সবজির বাড়তি দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবজির বাড়তি দামে ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্রেতাদের দেখানো নানা কারণকে অজুহাত বলছেন তারা, দায়ী করছেন সিন্ডিকেটকে। প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি ক্রেতাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরে এ বছর প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হলেও উৎপাদন নেই। স্থানীয় কৃষকদের ক্ষেতের মরিচ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দাম বাড়ছে হু হু করে। যশোরের বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে ফরিদপুরের মরিচ দিয়ে। 

কৃষকরা বলছেন, অতি বর্ষায় উৎপাদন নেই বললেই চলে। এ কারণেই সরবরাহ নেই। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ।

যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ সবজির হাট যশোরের সাতমাইল বারিনগর। এসব হাট থেকে ব্যাপারীরা পাইকারি দামে সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন। যশোর শহরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, রেল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের বেশির ভাগ সবজি আসে এই হাট থেকে।

হাটের ইজারাদার আব্দুস সুবহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাস দু-এক আগে বাজারে দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার কেজি পর্যন্ত মরিচ উঠতো বাজারে। এখন সেই মরিচ উঠছে তিন- চার শ’ কেজি। বর্ষাতে মরিচ ক্ষেতে পানি জমে গাছ নষ্ট হয়েছে। গাছে পচন ধরেছে। একসময় যশোরের মরিচ সারা দেশে সরবরাহ করা হতো। আর এখন ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার মরিচ দিয়ে যশোরে বাজারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বছর যশোর জেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল সাড়ে ৫ শ’ হেক্টর। এ বছর প্রায় ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হলেও খরার পরে অতি বর্ষাতে মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন এমনিতেই কম হয়। তার আগে ছিল খরা। দুই মিলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আশা করছি, মাসখানেকের মধ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

এদিকে, বর্তমানে রাজধানীর বাজারে এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতে ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা খরচ হচ্ছে। দুই-তিন আগে এ দর ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। কাঁচা মরিচের উচ্চ দামের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

এ অবস্থায় কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিলো সরকার। সোমবার থেকেই আমদানি করা যাবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচা বাজার পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচা মরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, কাঁচা মরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানো হচ্ছে এবং কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচা মরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

/এএম/এফআর/
সম্পর্কিত
কাঁচা মরিচের দামে লাগাম টানতে নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের
রান্নাঘরে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের চাপ
কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০, বেশিরভাগ সবজি শতকের ঘরে
সর্বশেষ খবর
সিটি ব্যাংকের ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, মুনাফা দাঁড়ালো কত?
সিটি ব্যাংকের ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, মুনাফা দাঁড়ালো কত?
‘ড্রপশিপিং’ বিজনেস কী, এটা কীভাবে শুরু করা যায়?
‘ড্রপশিপিং’ বিজনেস কী, এটা কীভাবে শুরু করা যায়?
ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি যে ভুলগুলো করেন পর্যটকেরা
ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি যে ভুলগুলো করেন পর্যটকেরা
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে নতুন বিপ্লব: ২০২৬ সালে কেন ‘ক্লাউড ফোনে ঝুঁকছেন বিশেষজ্ঞরা?
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে নতুন বিপ্লব: ২০২৬ সালে কেন ‘ক্লাউড ফোনে ঝুঁকছেন বিশেষজ্ঞরা?
সর্বাধিক পঠিত
নিজ এলাকাতেই সংশোধন করা যাবে এনআইডি
নিজ এলাকাতেই সংশোধন করা যাবে এনআইডি
কখন বুঝবেন ‘চাকরিটা এবার ছাড়ার সময় হয়েছে’
কখন বুঝবেন ‘চাকরিটা এবার ছাড়ার সময় হয়েছে’
যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি
যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি
আসিয়ানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের, কারণ জানালেন মহাসচিব
আসিয়ানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের, কারণ জানালেন মহাসচিব
বাংলাদেশে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হচ্ছে এলপিপি?
বাংলাদেশে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হচ্ছে এলপিপি?