বৃহত্তর খুলনায় উচ্চশিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজ। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের হৃদয় ও মননে দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। ৪১ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২৩টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি বিভাগে অনার্স এবং ২২টি বিভাগে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে।
শতবর্ষের ঐতিহ্য ধারণ করা কলেজটিতে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগলেও রয়েছে নানা সংকট। শিক্ষার্থীদের জন্য আটটি আবাসিক হোস্টেল থাকলেও ছেলেদের পাঁচটি হোস্টেলই পরিত্যক্ত। মেয়েদের দুটি হোস্টেল চালু রয়েছে এবং আরেকটি সংস্কার শেষে চালুর অপেক্ষায়। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা সীমিত হয়ে পড়েছে।
তবে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য ও সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রেও কলেজটির রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। বিএল কলেজ থিয়েটার, ডিবেটিং ক্লাব, আবৃত্তি সংগঠন ‘বায়ান্ন’সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জীবনমুখী শিক্ষার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ক্লাব। কলেজের গ্রন্থাগারে রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি বই।
ভৈরবের তীরে যাত্রা শুরু
খুলনা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে দৌলতপুরের ভৈরব নদের তীরে দুটি টিনশেড ঘর নিয়ে ১৯০২ সালের ২৭ জুলাই কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএল কলেজ। শুরুতে এর নাম ছিল ‘হিন্দু অ্যাকাডেমি’। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাটের বাউডাঙ্গার জমিদার এবং তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ব্রজলাল চক্রবর্তী (শাস্ত্রী)। সংস্কৃত, ইংরেজি সাহিত্য ও আইন বিষয়ে পণ্ডিত এই বিদ্যানুরাগীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের আর্থিক সহায়তা ও সমর্থনে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০২ সালের ৩ জুলাই কলেজের দাফতরিক কার্যক্রম শুরু হলেও পাঠদান শুরু হয় ২৭ জুলাই। শুরুতে সম্পূর্ণ আবাসিক প্রতিষ্ঠানটি ‘চতুষ্পাঠী’ ও ‘অ্যাকাডেমি’ নামে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল। চতুষ্পাঠীর শিক্ষার্থীদের খাবার, পড়াশোনা ও আবাসনের খরচ প্রতিষ্ঠান থেকেই বহন করা হতো।
১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯১২ সালে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবীর হাজী মুহম্মদ মুহসীনের সৈয়দপুর এস্টেট থেকে ৪০ একর জমি কলেজকে দান করা হয়। ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠাতা ব্রজলালের মৃত্যুর পর কলেজটির নাম করা হয় ব্রজলাল হিন্দু অ্যাকাডেমি। পরে অ্যাকাডেমিকে কলেজে উন্নীত করা হয় এবং সংক্ষেপে নাম হয় বিএল কলেজ। ১৯৬৭ সালের ১ জুলাই এটি সরকারি কলেজে পরিণত হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৯ জন ছাত্র নিয়ে এফএ (ফার্স্ট আর্টস) শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়। আবাসিক কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ছিল অবিভক্ত বঙ্গদেশের প্রথম আবাসিক কলেজগুলোর একটি। তখন অধ্যক্ষসহ শিক্ষক ছিলেন চার জন। প্রতিষ্ঠার প্রথম সাত বছর শুধু উচ্চবর্ণের হিন্দু ছাত্ররা এখানে পড়ার সুযোগ পেতেন। শুরুতে মুসলিম ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ভর্তির সুযোগ ছিল না।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই ৩৪ বছর
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই বিদ্যাপীঠে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠেছে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক শীর্ষ নেতা এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রয়াত অনেক নেতা এই কলেজ থেকে তাদের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ায় একদিকে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার কার্যকর মাধ্যম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে। এর পরের বছর, ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ছাত্র সংসদের জিএস শিবির নেতা মুন্সী আবদুল হালিম এবং সাহিত্য সম্পাদক শেখ রহমত আলীকে কলেজ ক্যাম্পাসে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই দিনই বিএল কলেজ ছাত্র সংসদ বন্ধ এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ছাত্র রাজনীতি চালু হলেও ছাত্র সংসদ আর চালু হয়নি।
নির্বাচনের দাবি শিক্ষার্থীদের
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিএল কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি হামিদুর রহমান শোভন বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গের বৃহত্তর উচ্চশিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান সরকারি বিএল কলেজ। এখানে ছাত্র সংসদ আছে, কিন্তু সুদীর্ঘ বছর ধরে নির্বাচন হয় না। আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। এতে নতুন নেতৃত্ব আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে, যা ছাত্রীদের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। ভবনকেন্দ্রিক সিসিটিভি থাকলেও মাঠ, সড়ক ও খোলা জায়গাগুলোতেও সিসিটিভি স্থাপন করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের হলগুলোও দ্রুত চালু করা জরুরি।
কলেজের শিক্ষার্থী ঋতি রায় বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যে প্রতিনিধিরা উঠে আসেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না; বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী এম এম মুন্না বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সংকটগুলো ঠিকমতো উঠে আসছে না। ক্যানটিনের অব্যবস্থাপনা, আবাসিক হল চালু না হওয়া ও পরিবহন সংকট দিন দিন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
সাহিত্য-সংস্কৃতিতেও সরব ক্যাম্পাস
শুধু পড়াশোনা নয়, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাতেও সরব বিএল কলেজ ক্যাম্পাস। আবৃত্তি সংগঠন ‘বায়ান্ন’ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম জিসান বলেন, ‘রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। প্রতিটি সেশনে ২৫ থেকে ৩০ জন থাকে। সংগঠনে যুক্ত হতে প্রথমে তিন দিনের ফ্রি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর আগ্রহী হলে ২০ টাকার ফরম নিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের পর টানা তিন দিন না এলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়।’
শিক্ষকদের ভাষ্য, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার ভালো পরিবেশ রয়েছে কলেজে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষার জন্যও রয়েছে নানা ক্লাব।
৫০ হাজারের বেশি বইয়ের গ্রন্থাগার
কলেজের গ্রন্থাগারে বই রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় এই গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ‘বিএল কলেজ জার্নাল’। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় প্রকাশিত এই জার্নালে ভাষা ও সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতি, দর্শন, ইতিহাস, অর্থনীতি, পরিবেশ বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও কলেজের শিক্ষক-গবেষকেরা লিখছেন। বছরে দুটি করে এখন পর্যন্ত জার্নালের আটটি ভলিউম প্রকাশিত হয়েছে।
গত মার্চে প্রকাশিত হয়েছে কলেজের বার্ষিকী ‘বিহঙ্গ’র শতবর্ষ সংখ্যা। যশোর-খুলনার ইতিহাসবিষয়ক বইয়ের লেখক অধ্যাপক সতীশচন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে প্রথম ‘দেবায়তন’ নামে কলেজ ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতার বিবেচনায় ১৯২৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একশত বছরের লেখা থেকে বাছাই করে ‘নির্বাচিত কলেজ ম্যাগাজিন (১৯২৩-২০২৩)’ প্রকাশিত হয়েছে গত জুনে।
ক্যাম্পাসের পরিবেশে মুগ্ধ শিক্ষার্থীরা
অর্থনীতি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লিমা খানম প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে আসেন। তাঁর কাছে ক্যাম্পাসের সুবিশাল মাঠ, গোছানো পরিবেশ, পড়ালেখার মান, সহপাঠীদের সহমর্মিতা এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা—সবই ভালো লাগে। কলেজে ঢুকলেই তাঁর মধ্যে অন্যরকম ভালো লাগা ও প্রশান্তি কাজ করে বলে জানান তিনি। তবে সব সুবিধার পরও আবাসন সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ।
ফিলোসফি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহেদ আহমেদ শুভ বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে বাড়ির মালিকরা ব্যাচেলরদের ভালো ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে চান না। মেস হিসেবে যেগুলো রয়েছে, সেগুলোও মানসম্মত নয়। পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর এবং খরচও বেশি। পাশাপাশি ওইসব মেস ও এলাকায় মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। দিন-রাত চারপাশের নানা শব্দের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ক্যাম্পাসে হোস্টেল চালু হওয়া খুবই জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্লেভার’ দিতে ২৫০ কোটি টাকার পরিকল্পনা
কলেজটির বর্তমান অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশকে আরও আধুনিক করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিএল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেভার’ দিতে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে। অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে এ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেভারে আসবে।’
তিনি জানান, মাস্টারপ্ল্যানে পাঠাগার ও পানি শোধনাগার নির্মাণ, আধুনিক বিজ্ঞান ভবন, মাল্টিপারপাস ১০ তলা ভবন, পরিবহন সুবিধা বাড়ানো, হোস্টেল সংস্কার ও নতুন আবাসন ব্যবস্থা, শিক্ষক-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য যানবাহন, প্রশাসনিক কাজের জন্য গাড়ি, মসজিদ কমপ্লেক্স, পুকুর ও মাঠ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে পরিবহনের জন্য ছয়টি বাস থেকে সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি বাসে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঁচটি হোস্টেলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হচ্ছে। ১৯১ জন শিক্ষকের যাতায়াতের জন্য ৩৬ আসনের একটি এসি কোস্টার এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিত্যক্ত হল নিয়ে নতুন উদ্যোগ
অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১১ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেখতে পান, কলেজের পাঁচটি ছেলেদের হলের মধ্যে তিনটি পরিত্যক্ত এবং দুটি সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি জানান, তিতুমীর হল সংস্কারের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শুরুর জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয় এবং টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তাঁর মতে, সংস্কার করলেও তিতুমীর হল পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হবে না। কারণ এটি সংস্কারের চেয়ে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ কারণে বরাদ্দ হওয়া ৫০ লাখ টাকা থেকে ৪০ লাখ টাকা দিয়ে জোহা হল সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত অবশিষ্ট ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে মহসিন হল মেরামত ও বিদ্যুৎ লাইন ঠিক করা, ৩০ লাখ টাকা দিয়ে কমার্স ভবন এবং ১২ লাখ টাকা দিয়ে কলাভবন মেরামতের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সবুজ ক্যাম্পাস ও খেলাধুলায় নজর
ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ। এ বছর নবীন শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে একটি করে গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর এসব চারার অবস্থা মনিটরিং করা হবে এবং চার বছর পর গাছগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।
মাদক নির্মূলে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নে ১৫ জন কর্মী কাজ করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ক্যাম্পাসের জন্য মেশিন কেনা হয়েছে। খেলাধুলার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা আয়োজন। ফুটবল, দাবা, ক্যারমসহ বিভিন্ন খেলাধুলা কমিটির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট নির্মাণের কাজ চলছে। অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে আরও তিন থেকে চারটি বাস কেনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ।
দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে চলা বিএল কলেজ এখন একদিকে তার পুরোনো গৌরব ধরে রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আধুনিক অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ছাত্র সংসদ পুনরুজ্জীবন, আবাসিক হল চালু, পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান হলে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।









