কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ায় খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। শুধু এই স্কুলই নয়, একই উপজেলার আরও পাঁচটি ও জেলা সদরের দুইটি স্কুলসহ মোট আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর অবস্থাও একই রকম। গত শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) রাতের ঝড়ে এসব প্রথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ঘর ভেঙে তছনছ হয়ে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঝড়ে স্কুল ঘর ভেঙে পড়লেও রবিবার (৩০ এপ্রিল) গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, গত বৃহস্পতিবারও (২৭ এপ্রিল) শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের কক্ষের ভেতরে পরীক্ষা দিয়েছে। তবে শুক্রবার রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে টিনশেড ঘরটি ভেঙে যায়। এরপর রবিবার থেকে স্কুলের মাঠে গাছতলায় খোলা আকাশের নিচেই চলছে পরীক্ষা।
স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তারা, মিলন, আশরাফুল, মিম, মনি ও বিথী জানায়, ঝড়ে তাদের অনেকের বাড়িও ভেঙে পড়েছে। পরে স্কুলে এসে তারা নিজেদের শ্রেণিক্ক্ষও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পায়। দ্রুত বিদ্যালয়টি পাকা করার দাবি জানায় তারা।
গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০০০ সালে টিনশেড ঘরে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে স্কুলটি সরকারি হয়। কিন্তু এর অবকাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার রাতের ঝড়ে ঘরটি একদম ভেঙে পড়েছে।’ এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
একই অবস্থা বনচৌকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা বিজলী বেগম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ছাউনি ঝড়ে উড়ে গেছে বলে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে এই উপজেলার মোট ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা প্রায় একই রকম। সেটা স্বীকার করেন নেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকারও। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুধু গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, শুক্রবার রাতের ঝড়ে আদিতমারী উপজেলা ও জেলা সদরের মোট আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তছনছ হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীকে এখন খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে।’
নবেজ উদ্দিন সরকার আরও বলেন, ‘জেলায় সাতশ ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে যেসব স্কুলের শ্রেণিকক্ষগুলো টিনশেড, ঝড়ে সেগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্রুত এসব স্কুলের তালিকা করে পাঠাতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তমকর্তাদের কাছে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোর তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন-
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জামিন নিল শিশু রনি!
ডিপিএসের কথা বলে তালাকনামায় স্বাক্ষর!
৩৪ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার
কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ জুন
/এসএমএ/টিআর/








