লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন মাগুরার চামড়া ব্যবসায়ীরা। মূলধন সংকট, সরকার কতৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন দর, লবনের চড়ামূল্য আর ভারতীয় এজেন্টদের তৎপরতা— সব মিলিয়ে জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা রয়েছেন চরম শঙ্কার মুখে।
জেলা চামড়া আড়তদার সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার চামড়া আড়তদারদের সংকট দীর্ঘদিনের। এবার সেই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এবার চামড়ার যে দর নির্ধারিত হয়েছে, তা একযুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। ঢাকার বাইরে গরুর চামড়ার দর গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি বর্গফুটে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এদিকে, চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবন কিনতে হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫ টাকা দরে, যা গতবছর ছিল ১৫ টাকা। তাছাড়া ট্যানারি মালিকরা গত বছরের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভুগছে তীব্র মূলধন সংকটে।
চামড়ার আড়তদাররা অভিযোগ করে বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর চামড়া শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। তারা চড়ামূল্যে চামড়া শ্রমিক নিয়ে এসেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত চামড়া সংগ্রহ করতে না পেরে এসব শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।
জানা গেছে, এ বছর জেলায় প্রায় ১১ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এই ১১ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল চামড়া ব্যবসায়ীদের। কিন্তু মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলার আড়তদাররা মাত্র পাঁচ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছেন। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের।
জেলা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছর ট্যানারি মালিকদের ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। সেই টাকা এখনও তারা শোধ করেনি। আবার ট্যানারি মালিকরা ব্যাংক থেকে ঋণ পায়, কিন্তু আমরা পাই না। গত বছরের তুলনায় চামড়া সংরক্ষণে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় গুণ। অথচ এবার চামড়ার দাম কম। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।’
স্থানীয় আড়তদার কাওসার খান বলেন, ‘গত বছরের কোরবানির ঈদে তিনশ পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। এবার দেড়শ চামড়াও সংগ্রহ করতে পারিনি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ভারতীয় এজেন্টদের মাধ্যমে চামড়া পাচার করবে বলে আশঙ্কা করছি।’
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের কাছে ভারতে চামড়া পাচার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চামড়া পাচারের কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে।’
আরও পড়ুন-
আদালতের রায় নিয়ে সরকার বেকাদায় পড়েছে: আ স ম রব
কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলন ১৫ সেপ্টেম্বর







