ছুটি পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন পিয়াস

আনিসুর রহমান স্বপন, বরিশাল
১৪ মার্চ ২০১৮, ০৩:২৩আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ১১:৩৭

ডা. পিয়াস রায় ভ্রমণের নেশা থেকেই নেপাল গিয়েছিলেন ডা. পিয়াস রায়। ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণপিপাসু পিয়াস ছুটি পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন। নেপাল যেতে ইউএস বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০ উড়োজাহাজে চড়েছিলেন। কিন্তু কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে তিনি নিহত হন।

বরিশাল নগরীর এমএ গফুর সড়কের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাসায় চলছে স্বজনদের আহাজারি। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন আসবে পিয়াসের মরদেহ। ঢাকায় ইউএস-বাংলা অফিসে আছেন কয়েকজন স্বজন।

পিয়াসের বোন-জামাই সুসময় সরকার বলেন, ‘পিয়াস এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে অবসর সময়ে নানা জায়গায় ঘুরতে যেতো। ইতোমধ্যে ভারতে ছয়বার ও নেপালে আরও দুইবার ভ্রমণ করেছিল। কয়েকদিন আগে তার মেডিক্যাল কলেজের শেষবর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষা দিয়েই সে নেপাল ভ্রমণে যায়।’

পিয়াস রায়ের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় জানান, নেপালে পিয়াসের বন্ধুরা রয়েছে। এর আগেও দেশের বাইরে ঘুরতে গেছে পিয়াস। নেপালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সোমবার সকালে ও সর্বশেষ প্লেনে ওঠার আগে সোয়া ১১টার দিকে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার।

পিয়াসের মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বলেন, ‘১১ মার্চ রাতে বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় যায় পিয়াস। সে সময় তিনি তার ছেলেকে লঞ্চঘাটে দিয়ে আসেন। ১২ মার্চ সকালে ঢাকায় চাচাতো ভাইয়ের বাসায় গিয়ে ওঠে পিয়াস। সেখান থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে পিয়াস।’

মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বলেন, ‘সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পিয়াসের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছে। তখন পিয়াস জানিয়েছিল— কিছুক্ষণের মধ্যে সে বিমানে উঠবে। এরপর আর তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি।’

ডা. পিয়াস রায় পিয়াসের বোন শুভ্রা রায় বলেন, ‘পিয়াস (BC0759899) নম্বরের পাসপোর্টধারী যাত্রী ছিল। তার টিকিটে যাওয়ার ফ্লাইট নম্বর ছিল (BS 211)। ওই এয়ারওয়েজের (BS 212) নম্বর ফ্লাইট ধরে ১৬ মার্চ দুপুর তিনটায় কাঠমান্ডু থেকে পিয়াসের ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। দুটি টিকিটই অগ্রিম কাটা ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার বদলে না-ফেরার দেশে চলে গেল পিয়াস।’

পিয়াস রায় জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের মধুকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন্দু বিকাশ রায়ের ছেলে। বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার চন্দ্রকান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

দুই ভাই-বোনের মধ্যে পিয়াস রায় ছিল বড়। বোন শুভ্রা রায় রাজধানী ঢাকার নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

বুড়িমারী জিরো পয়েন্টে পিয়াস পিয়াস বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন।

ছাত্রজীবনে ওই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন পিয়াস। 

আরও পড়ুন: বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পিয়াস রায়ের বাড়ি বরিশালে

/এনআই/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
গতকাল থেকে আমরা লাশের হিসাব পাইনি: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী
ইউএস বাংলার সার্ভিসের মান মনিটরিং করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি
‘তারা কীভাবে জানলো পাইলট ধূমপান করছিলেন’
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম