এখনও আতঙ্ক কাটেনি হিজলতলাবাসীর

Send
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৪৮, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৫, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

আগুন লাগার পর কারখানাটি থেকে ধোয়া বের হচ্ছেকেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার হিজলতলা এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া কারখানার চারপাশে কয়েক হাজার মানুষ বাস করেন। ওই এলাকায় ৩-৪টি ডায়িং অ্যান্ড ওয়াশিংসহ বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে। হিজলতলাবাসী বলছেন, এসব কারখানাও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনও সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, আগুন লাগতে পারে। তাই আতঙ্কে রয়েছেন তারা।

হিজলতলার বাসিন্দা মো. টুটুল বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে ৩-৪টি ডায়িং অ্যান্ড ওয়াশিং কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় বিভিন্ন এসিড ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে কাজ করা হয়। কারখানার বিষাক্ত গ্যাস এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া এসব কারখানার বয়লার মেশিনে কাপড়চোপড় ওয়াশ করা হয়। ওয়াশিং মেশিন যেকোনও সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘যদি এসব কারখানায় আগুন লাগে বা বয়লার মেশিন বিস্ফোরিত হয়, আমাদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হবে। বারবার মালিকদের কারখানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও তারা তাতে কান দেননি। উল্টো তাদের বাহিনী দিয়ে গ্রামবাসীকে নানা হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
সেখানকার একটি ডায়িং অ্যান্ড ওয়াশিং কারখানার পাশের বাড়ির বাসিন্দা আশারন বিবি বলেন, ‘ডায়িং কারখানাটির ওয়ালের সঙ্গে আমার বসবাসের ঘরটি লাগোয়া। কারখানাটি চালু হলে বাড়ির ঘরগুলো গরম হয়ে যায়। বয়লার মেশিন কোনও কারণে বিস্ফোরিত হলে কারও বেঁচে থাকার উপায় থাকবে না। কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বললে মালিক পক্ষের লোকজন আমাদের মারতে আসে।’
একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, এই এলাকায় অবৈধ কারাখানা গড়ে ওঠায় তারা ঠিকমতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এসব কারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হাজী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া কারখানার পাশেই আমার চারতলা বাড়ি। কোনোরকমে বাড়িটি আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমাদের একটাই দাবি, এই এলাকায় কোনও কারখানা রাখা যাবে না।’
এদিকে, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত দেবনাথ এবং কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় তারা দুটি ডায়িং অ্যান্ড ওয়াশিং কারখানা ও একটি প্যাকেজিং ফয়েল পেপার কারখানা তালাবদ্ধ করে দেন।
অপরদিকে, ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান শুক্রবার আগুনে পুড়ে যাওয়া প্লাস্টিক কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একটি কারখানা করতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, তার কোনও কিছুই এখানে করা হয়নি। আবাসিক এলাকায় কোনও কারখানা রাখা যাবে না। কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ইউনিয়নের বিসিক শিল্প নগরীর পাশেই অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। আবাসিক এলাকার কারখানাগুলো সেখানে স্থানান্তর করা হবে।’
ক্ষতিগ্রস্ত অবৈধ কারখানায় কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার হিজলতলা এলাকার ‘প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক কারখানায়’ গ্যাসের পাইপের লিকেজ থেকে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের একজন ঘটনাস্থলে এবং বাকিরা ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঢামেক ও শেখ হাসিনা বার্নে এখনও ২১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন; যাদের অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ