‘রাখাইনে শান্তি ফেরাতে বৈশ্বিক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা হচ্ছে’

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৮:৫৪, জানুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৮, জানুয়ারি ২১, ২০২০

জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি বলেছেন, ‘রাখাইনে স্বশস্ত্র সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। সেখানকার চলমান সহিংসতা নিরসন করে স্বস্তি ফিরিয়ে এনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে জাতিসংঘ কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে।’

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালং মেগা-১৭নং ক্যাম্পের সরকারি অফিসের কনফারেন্স হলে ক্লোজডোর পৃথক পৃথক রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত বৈঠকে সম্প্রতি মিয়ানমারে কারাভোগ শেষে কুতুপালং মেগা বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ৬৩ জন রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে ৫ জন রোহিঙ্গার সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন ইয়াং হি লি।

পৃথক বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন- এআরএনইউ’র চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান মাস্টার নুরুল আলম, মাস্টার ইলিয়াসসহ সাত জন, রোহিঙ্গা শান্তি মহিলা কমিটির হামিদা বেগম, সেতারা বেগমসহ ৬ জন, ভয়েস অব রোহিঙ্গার রিদুয়ান, শামসুল আলমসহ ৫ জন, রোহিঙ্গা উইমেন অ্যান্ড নেটওয়ার্কের উম্মে কুলসুম, ইয়াছমিনসহ ৫ জন, রোহিঙ্গা রিফিউজি কাউন্সিলরের সিরাজুল মোস্তফাসহ ৫ জন, রোহিঙ্গা ইয়্যুথ ফর লিগ্যাল অ্যাকশনের শফিক, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা স্টুডেন্ট ইউনিয়নের আবসারসহ ৬ জন।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাতটি রোহিঙ্গা সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ইয়াং হি লি। বৈঠক শেষে বেরিয়ে রোহিঙ্গাদের নতুন সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল ইউনিয়ন- ‘এআরএনইউ’ চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রশীদ বলেন, ‘আমরা ইয়াং হি লি’র কাছে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ কী এবং রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গত আড়াই বছরে জাতিসংঘের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া আরেক রোহিঙ্গা স্টুডেন্ট নেটওয়ার্কের নেতা সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘রাখাইনে সংঘাতের কারণে গত আড়াই বছরে অন্তত ২ লাখ রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী তাদের মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এসব রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা ইয়াং হি লির কাছে উদ্বেগ প্রকাশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছি।’

এর পর বিকালে ইয়াং হি লি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় শূন্যরেখায় অবস্থিত ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে রবিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াং হি লি কক্সবাজারে এসে পৌঁছান। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছিলেন।

/এআর/

লাইভ

টপ