করোনা ভাইরাস: সীমান্ত পারাপারে সতর্কতা

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:১৫, জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৬, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে করোনা ভাইরাস শনাক্তে কাজ করছে মেডিক্যাল টিমবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সতর্কবার্তা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর দেশের স্থলবন্দরগুলোতে যাত্রী পারাপারে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোতে সব যাত্রীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করায় শওকত আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে আজ সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত।

দিনাজপুর

দিনাজপুরের হিলি ও বিরল স্থলবন্দরে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর আজ সোমবার এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দিনাজপুর স্বাস্থ্য বিভাগ। দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবদুল কুদ্দুছ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন জানান, ‘ভারত থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে করোনো ভাইরাস সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য অনুসন্ধানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। একইসঙ্গে জেলায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে পাঁচটি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই ভাইরাসের আক্রমণ, সংক্রমণ এবং শনাক্তকরণের কোনও তথ্য পেলেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এই দুটি স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। আর বিরল স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন গড়ে দেড় শতাধিক যাত্রী। তবে যারা যাতায়াত করছেন তাদের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না এই দুটি বন্দরে। গত শনিবার পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই যাত্রীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।

বাংলা ট্রিবিউনের হিলি প্রতিনিধি জানান, চার সদস্য করে সর্বমোট পাঁচটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে এই বন্দরের জন্য। প্রতিটি টিমে একজন করে মেডিক্যাল অফিসার, একজন মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট ও দুজন স্বাস্থ্য সহকারী রয়েছেন।

দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে করোনা ভাইরাস শনাক্ত ও এ বিষয়ে সতেচনতা তৈরিতে কাজ করছে মেডিক্যাল টিম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সোমবার মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘সোমবার ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন সতর্কতা জারির এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল ক্যাম্প গঠনের। তাই কনফারেন্স শেষে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন রুমে কাজ করবেন। এ পথে ভারত থেকে আসা বিদেশি নাগরিক, ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিক যারা ভারতে যাবেন ও বাংলাদেশে আসবেন, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করবেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।’

সিভিল সার্জন জানান, মেডিক্যাল টিম সন্দেহজনক কোনও রোগীর সন্ধান পেলে সেই রোগীকে আলাদা বেডে রেখে ‘সিনট্রোমেটিক’ চিকিৎসা দেওয়া হবে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক পাসপোর্টধারী ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিক উভয় দেশে যাতায়াত করেন। এর পাশাপাশি স্থলবন্দরে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিনশ’ পণ্যবোঝাই ট্রাকের চালক, হেলপার ও ব্যবসায়ীও যাতায়াত করেন।

সাতক্ষীরা

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ভারত থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। রবিবার থেকে প্যারামেডিক্যাল চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চার সদস্যের এই কমিটি কাজ শুরু করেছে।

ভোমরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুস সহিদ বলেন, ‘প্যারামেডিক্যাল চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ভোমরা বন্দরকে নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। ভারত থেকে আসা রোগীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর বিশেষ করে গায়ে জর জর ভাব, সর্দি, কাশি থাকলে তাদের বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন শীতের সময় অনেকে ঠান্ডাজনিত সর্দি-জরে ভুগছেন। এটা নিয়ে আমাদের একটু বিপদে পড়তে হচ্ছে।’

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন সাফায়াত জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বৃহস্পতিবার চিঠি পাওয়ার পরই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলে ঢাকায় খবর পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে করোনা ভাইরাস শনাক্ত ও এ বিষয়ে সতেচনতা তৈরিতে কাজ করছে মেডিক্যাল টিম

 

চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাকিল আরসালানকে প্রধান করে গঠন করা এ কমিটি আজ সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় তিন হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেন।

ডা. শাকিল আরসালান জানান, তারা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। কোনও রোগীর সন্ধান পেলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন এএসএম মারুফ হাসান বলেন, ‘সড়ক ও রেলপথে দুই দেশের যাত্রীরা বাংলাদেশ ও ভারতে আসা যাওয়া করেন। উভয়পথেই সতর্কতা জারি হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে হেলথ ডেস্ক বসানো হয়েছে। একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডরের মাধ্যমে সোমবার থেকে এই হেলথ ডেস্কের কার্যক্রম শুরু হয়। সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করায় শওকত আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে আজ সকালে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত।
শওকত আহমেদ জানান, ‘এক সপ্তাহ ভ্রমণ করে গত নভেম্বর মাসের শেষদিকে তিনি চীন থেকে দেশে ফেরেন। আজ সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে ঢোকেন তিনি। এরপর পাসপোর্টে চীনের ভিসা দেখতে পেয়ে আগরতলা ইমিগ্রেশনে তাকে আটকে দেওয়া হয়।’ দুই মাস আগে চীন ভ্রমণ করায় তাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আখাউড়া ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-পরিদর্শক আব্দুল হামিদ জানান, বৈধ ভিসা ছিল শওকত আহমেদের। দুই মাস আগে চীন ভ্রমণ করায় তাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে আগরতলা ইমিগ্রেশন থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, শওকত আহমেদ ফেনী জেলার সদর উপজেলার সাহিবপুর গ্রামের সৈয়দ আহমেদের ছেলে। তিনি মোটর যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম জানান, ‘স্বাস্থ্য দফতর থেকে এ সম্পর্কিত নির্দেশনা পাওয়ার পর করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমরা সীমান্তে সতর্কতা অবলম্বন করছি। সে অনুযায়ী সোমবার থেকে আখাউড়া স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আমাদের হেলথ ডেস্ক বসানো হয়। মূলত সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেছে এমন যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

ভারত থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ওই ব্যবসায়ী ফিরে আসার পর আমরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। করোনা ভাইরাসের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখউড়া স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার যাত্রী ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করে থাকেন।

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ