ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ করলো ৬ কলেজছাত্রী

Send
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:১৯, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৯, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন সিকদারশরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি শামছুর রহমান কলেজের একাদশ শ্রেণির ছয় ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন সিকদার ও সহযোগী মারুফ রায়হান ইভটিজিংয়ের ভিডিও ধারণ করেন বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে ওই ছয় ছাত্রী অধ্যক্ষর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত ইয়ামিন ওই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং সহযোগী মারুফ রায়হান দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

অভিযোগকারীরা জানায়, সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ইয়ামিন ও মারুফ রায়হান ছাত্রীদের ঘিরে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং অশালীন মন্তব্য করে। এসময় তারা ভিডিও করতে থাকে। ছাত্রীরা সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে চাইলে তাদের আটকে রাখা হয়। পরে ওই ছাত্রীরা শিক্ষক মিলনায়তনে আশ্রয় নেন। বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ ফজলুল হককে জানালে তিনি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। ছয় ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিলে শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভা আহ্বান করেন অধ্যক্ষ। পরের দিন  পাঁচ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ইভটিজিংয়ের শিকার এক ছাত্রী বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। এখন কলেজে আসতে ভয় পাচ্ছি। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অনবরত আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্যা শোহেব আলী বলেন, ‘বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার কথা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে এখনও কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছি। প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সরকারি শামছুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনটি জানার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্ত কমিটি গঠন করার পর থেকে ইয়ামিন ও মারুফ কলেজে আসছেন না। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

/এনএস/

লাইভ

টপ