ঝুপড়ি দোকানেও ইংরেজি সাইনবোর্ড কেন: প্রশ্ন নাছিরের

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩:০৯, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৮, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সিজেকেএস জিমনেশিয়ামে এক অনুষ্ঠানে আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ অন্যরাসাইনবোর্ড ও অনুষ্ঠানের চিঠি ইংরেজিতে ছাপানো বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন,‘একটি ঝুপড়ি দোকানেও ইংরেজি সাইনবোর্ড কেন? একুশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে। এটি চির অম্লান হয়ে থাকবে। এ ভাষা যত বেশি অন্তরে ধারণ করবো, লালন করবো; আন্তর্জাতিকভাবে তত এর গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান-মর্যাদা বাড়বে।’

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সিজেকেএস জিমনেশিয়ামে মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মেয়র প্রধান অতিথি ছিলেন।

আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এবার বইমেলায় গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ স্টল হয়েছে। গতবারের ভুলত্রুটি দূর করে এবারের বইমেলা হচ্ছে। আশা করি, চসিকের অমর একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তরা মেধার বিকাশ ঘটিয়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে আরও অবদান রাখবেন।’ নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও যেন ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে সম্মিলিত বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সে ব্যাপারে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান মেয়র নাছির।

চসিক মেয়র বলেন, ‘আগামী ৪ আগস্ট মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হবে আমার। গত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এ শহরে আমার জন্ম। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলজীবনে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হই। অনেক চড়াই -উতরাই পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে আসা। আমি এ দেশের মাটি ও মানুষকে অন্তরে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমৃত্যু এটি থাকবে। এ নগরবাসীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। এ নগরবাসীর কাছে আমি অনেক বেশি ঋণী। বেঁচে থাকলে, এ ঋণ শোধ করার চেষ্টায় থাকবো।’

পরে আ জ ম নাছির উদ্দিন সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন। এবার ভাষা আন্দোলনে পদক পান আবু তালেব চৌধুরী (মরণোত্তর)। শিক্ষায় অধ্যক্ষ এএফএম মোজাফফর আহমদ (মরণোত্তর), চিকিৎসাসেবায় প্রফেসর সৈয়দা নুরজাহান ভূঁইয়া (মরণোত্তর), স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ হারুনুর রশীদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হারিছ, সাংবাদিকতায় আখতার-উন-নবী (মরণোত্তর), সংগঠক প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, সংগঠক বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী; ক্রীড়ায় সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর, সংগীতে ওস্তাদ স্বপন কুমার দাসকে পদক দেওয়া হয়। এছাড়া সমাজসেবায় সন্ধানী চমেক ইউনিটকে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক এবং কথাসাহিত্যে (অনুবাদ) ড. মাহমুদ উল আলম, প্রবন্ধ গবেষণায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কবিতায় ওমর কায়সার ও শিশুসাহিত্যে আকতার হোসাইনকে সম্মামনা প্রদান করা হয়েছে।

করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, অমর একুশে বইমেলার আহ্বায়ক নাজমুল হক ডিউক প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ