ভাষা শহীদদের ছবি চেনেন না রাবির ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান!

Send
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৫২, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৪, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০




রাবির ইতিহাস বিভাগের একুশের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবিএকুশের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ব্যবহার করে সংগীত বিভাগের পর এবার সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ। এরআগে, সংগীত বিভাগের ব্যানারের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে গত রবিবার বিভাগের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এই সমালোচনার মধ্যেই সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইতিহাস বিভাগের ব্যানারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওঠে সমালোচনার ঝড়।

ইতিহাস বিভাগের ব্যানারের ওপরে লেখা, ‘অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি’। এর নিচে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি’। ব্যানারের ডান দিকে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতির ওপর লেখা, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’। তবে ব্যানারের বাম দিকে রয়েছে সাত বীরশ্রেষ্ঠর ছবি।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনের সামনে থেকে ইতিহাস বিভাগের প্রভাতফেরি বের হয়। প্রভাতফেরিতে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মর্ত্তুজা খালেদ, অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র, সহকারী অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, হেলাল উদ্দিন প্রমুখসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মর্ত্তুজা খালেদকে ফোন করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি? ব্যানারের জন্য ছাত্রদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম, ওরা করে নিয়ে এসেছে। আমি ভাষা শহীদের ছবি চিনি না তো।’

প্রসঙ্গত, একুশে ফেব্রুয়ারির ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রাবির সংগীত বিভাগ।

রাবির ইতিহাস বিভাগের একুশের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবিএদিকে একুশে ফেব্রুয়ারির ব্যানারে মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি ব্যবহারের পেছনে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা নিয়ে গবেষণা ও পড়ালেখা না করাই মূল কারণ বলে মনে করছেন বাংলা ভাষার গবেষক ও শিক্ষাবিদরা। বাংলা একাডেমি পুরষ্কারপ্রাপ্ত বাংলা ভাষার গবেষক ও আভিধানিক অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার বলেন, ‘এ ধরনের ভুল অজ্ঞতা, অমনোযোগিতা এবং অনভিজ্ঞতাসহ যেকোনও কারণে ঘটতে পারে। অনভিজ্ঞতা ও অজ্ঞতার কারণে ঘটা ভুল ক্ষমারযোগ্য। তবে যারা আমাদের ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন, তাদের ভুল ক্ষমার যোগ্য নয়।’

শিক্ষাবিদ গোলাম মুরশিদ মনে করেন, ‘ইতিহাসের প্রতি নির্লিপ্ততার কারণে এ ধরনের ভুল হয়েছে। ইতিহাস বিভাগ যারা মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করে, তাদের এ ধরনের ভুল দুর্ভাগ্যজনক। আমি এমনও শুনেছি, এক যুগলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে কেন এসেছেন, একজন উত্তর দিলেন আজ তো স্বাধীনতা দিবস। মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ দিবস নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে, তবে কেউ এই দিনটি নিয়ে পড়ালেখা করেন না।’

/টিটি/

লাইভ

টপ