স্থানীয়দের উদ্যোগে সামাজিক লকডাউনে রাঙামাটির দুই গ্রাম

Send
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:১৫, মার্চ ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৯, মার্চ ২৮, ২০২০

একটি গাছ দিয়ে পাড়ার প্রবেশপথ বন্ধ। বাইরের কেউ ঢুকতে পারবে না, খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পাড়ার কেউ বেরও হতে পারবে না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লোকজনকে ঘরে রাখতে হিমশিম অবস্থা। ফলে এই পদ্ধতিতে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে রাঙামাটি শহরের বিজয় নগর ও গর্জনতলী এলাকার বাসিন্দারা। স্ব উদ্যোগেই নিজ গ্রাম লকডাউন করে রেখেছে তারা। পিছিয়ে থাকা এই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এমন উদ্যোগ অনেকের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।

করোনা ঝুঁকি মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্বকে প্রাধান্য দিয়ে গত বুধবার থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষকে ঘরে ফেরাতে দিন-রাত কাজ করছে। এমন পরিস্থিতেই বিজয় নগর ও গর্জনতলী এলাকায় নিজেরাই গ্রাম লকডাউনের উদ্যোগ নিয়েছে এলাকাবাসী। বাইরে থেকে কাউকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি নিজেরাও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না।

দুর্গম পাহাড়ে মহামারীর ছোবল নতুন কিছু নয়। ফলে যেকোনও রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বাঁশ বা গাছ দিয়ে স্থানীয় পাড়াগুলোর এভাবে ‘সামাজিক লকডাউন’ করার চর্চাও চলে আসছে সুদীর্ঘকাল থেকেই।

রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখনও পর্যন্ত কোনও করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত ১৫১ জন বিদেশফেরত মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

বিজয় নগরের বাসিন্দা সুপ্রিয় চাকমা ও রবিন চাকমা বলেন, মহামারী ঠেকানোর জন্য গ্রাম লকডাউন করে রেখেছি। এই সময় রাঙামাটির বাইরে অবস্থানরত কেউ যদি আসে তাদের ১৪ দিন হোম কায়ারান্টিনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ এলাকার বাইরে যেতে পারবে না। কেউ আসতেও পারবে না। এর কারণ আমাদের এলাকায় যেন সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

গর্জনতলী এলাকার বাসিন্দা সুমন ত্রিপুরা বলেন, সরকার আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। সেই অনুযায়ী আমাদের এলাকার লোকজনকে জরুরি কাজ ছাড়া বের হতে দিচ্ছি না। বহিরাগত কাউকেও এলাকায় ডুকতে দিচ্ছি না। আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, সাবান পানি দিয়ে হাত মুখ ধোওয়া এবং সাবাই যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রাঙামাটি বিজয় নগর গ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, যখন এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তখন গ্রামবাসীদের নিয়ে আমরাই নিজ গ্রাম লকডাউন করে দিয়েছি। পাড়ায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে এবং দোকানগুলোতে সাবান পানি রাখা বাধ্যতামূলক করেছি। প্রতিদিন খোঁজ রাখার চেষ্টা করছি কেউ অসুস্থ হচ্ছে কিনা।

রাঙামাটি গর্জনতলীর বলাকা ক্লাবের সভাপতি ঝিনুক ত্রিপুরা বলেন, এলাকা ঝুঁকিমুক্ত রাখতে আমাদের এই উদ্যোগ। যদি প্রতিটি এলাকা তাদের নিজেদের উদ্যোগে কাজ করে তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের কাজের সুবিধা তৈরি হবে।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র কালায়ন চাকমা বলেন, সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত। যেসব এলাকায় নিজ উদ্যোগে কাজ হচ্ছে তারা প্রশংসার দাবিদার। এটা অনেকটা সরকারকে সহযোগিতার শামিল।

/এমপি/

লাইভ

টপ