‘সবাই বাইরে, আমি একাই ঘরে’

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৩২, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৭, মার্চ ৩১, ২০২০




খুলনা মহানগরীর রূপসা ঘাট বাজার ঘরে কোনও খাবার নেই। মাছ, শাক-সবজিও শেষ। তাই ধীরে ধীরে বাজারে এলাম। কিন্তু বাজারে এসেই মনে হলো আমি একাই বাড়িতে ছিলাম। হোম কোয়ারেন্টিন কঠোরভাবে মানছি। কিন্তু সবাই বাইরে স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। বাজার, সড়ক, ছোট ছোট মাঠ মানুষে ভরা। গলিতে চলছে তরুণদের জমজমাট আড্ডা। খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া তালতলা এলাকার মো. ইয়াসিন আরাফাত এভাবেই বললেন তার কোয়ারেন্টিন অভিজ্ঞতা। তার কথাতেই বোঝা গেলো খুলনায় করোনা বিস্তার রোধে সামজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না, কোয়ারেন্টিনে থাকছেন না নাগরিকরা।

এ নিয়ে পুলিশ সদস্যরাও হাতশা প্রকাশ করেছেন। খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোস্তাক আহমেদ তার ফেসবুক পেজে এ নিয়ে হতাশা নিয়ে লিখেছেন, ‘পুলিশ দেখলেই পালিয়ে যায়, আবার পুলিশ চলে গেলে ২০/৩০ জনের আড্ডা হয় প্রকাশ্যে। কীভাবে সম্ভব? আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছি। সেদিকে কারও মাথাব্যথা নাই। অথচ আইন অমান্য করে রাস্তায় ঘোরাফেরাকরাদের পক্ষে ফেসবুকে সমর্থন চলছে।’

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম বাহার বুলবুল বলেন, পুলিশ সব এলাকার দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলেছে। তবুও চায়ের দোকানদাররা চোখ এড়িয়ে দোকান খোলা রাখছেন। যা নিয়ে আমরা হতাশ।

খুলনা মহানগরীর রূপসা ঘাট বাজার সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর জোড়াকল বাজার, মিস্ত্রিপাড়া বাজার, নতুন বাজার, গল্লামারি বাজার, বড় বাজার, সন্ধ্যায় ময়লাপোতা সন্দ্যা বাজারসহ অধিকাংশ বাজারে উপচে পড়া ভিড়। মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার নিতে এসেছেন এসব জায়গায়। বাজার করছেন স্বাভাবিক সময়ের মতো অনেকটা গাদাগাদি করে। মাস্কও ব্যবহার করেছেন না, হাতে নেই গ্লাভস।

মিস্ত্রিপাড়া বাজারে আসা ইব্রাহিম মোড়ল বলেন, ‘তিন ফুট দূরত্বে থাকার বিষয় জানি। তবে, দাঁড়ানোর পর পাশে আরও একজন দাঁড়ালে তাকে তো দূরে সরে যেতে বলতে পারি না।’

আনছার উদ্দিন নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, ‘ঘুরে ঘুরে বাজার করতে হচ্ছে। যে পরিমাণ মানুষ, তাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা আসলেই কঠিন।’

রূপসা উপজেলার পালের হাট বাজারমুসলমানপাড়ার চা দোকানি মনোয়ারা বেগম বলেন, আগে সকাল-বিকেল পুলিশ আসতো। গত দু’দিন পুলিশ আসছে না। তাই দোকান খুলেছি। বেচা বিক্রি ভালোই হচ্ছে। মানুষতো সব বাইরেই। এ অবস্থায় ঘরে ঘরে গিয়ে বাতি জ্বালিয়ে মানুষ খুঁজতে হবে।

এ অবস্থায় বাজারগুলোতে সতর্কতা মেনেই বেচা-কেনা চলছে বলে দাবি করেন রূপসা পাইকারি মৎস্য বাজার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রমজান আলী হাওলাদার। তিনি বলেন, মাছ বাজার পুরোপুরি বন্ধ হলে মানুষ খাবে কী? বাজারে সাবান-পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মাস্ক ব্যবহার করছেন।

রূপসা উপজেলার পালের হাট বাজারকোয়ারেন্টিন মেনে চলতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের কাছে সতকর্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে সক্রিয় ও কঠোর হওয়ার আহবান জানাই।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে ও নাগরিকরা সচেতন না হলে ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমদ। তিনি বলেন, এমন দশা চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহেই করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় মোড় নিতে পারে। এখনই হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানান তিনি।

/টিটি/

লাইভ

টপ