বরিশালে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ মামলায় ৮০ আসামি

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০০:৪৮, এপ্রিল ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০০, এপ্রিল ০৬, ২০২০

আধিপত্য বিস্তার ও বালু ভরাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা বাসস্ট্যান্ড ও উত্তর বিজয়পুর এলাকায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। রবিবার সকালে দায়েরকৃত ৩টি মামলায় নাম উল্লেখ করা ৬১ জনসহ প্রায় ৮০ জনকে আসামি করা হয়। ৪ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য রাশেদুজ্জামান ঝিলামের স্ত্রী শারমিন জাহান বাদী হয়ে ১৮ জন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জনকে আসামী করে একটি, ঝিলামের সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে ৩২ জন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে আসামি করে একটি এবং প্রতিপক্ষ সুমন মাহমুদের মা মিনারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসি গোলাম ছরোয়ার। তিনি ‍আরও জানান, বাকী ‍আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বালু ভরাট কাজের কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত শনিবার গৌরনদীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্য এবং ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় ২টি বাড়ি ও ২৩টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।

গুরুতর আহত কনেস্টবল মোঃ মাহাবুব, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ ৩ জনকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রাশেদুজ্জামান ঝিলাম জানান, ‘গৌরনদী টিএন্ডটি অফিসের পশ্চিম পাশে তার নিজস্ব ৪৫ শতাংশ জমিতে বালু ভরাট কাজ শুরু করে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগের নেতা সুমন মাহামুদ মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে। সুমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের আট থেকে ১০ নেতাকর্মী  দুপুর আড়াইটার দিকে আমার টরকী বন্দরের বাসায় ঢুকে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় আমার স্ত্রী, কন্যা ও ছেলে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও লাঞ্ছিত করা হয়।’

সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহামুদ অভিযোগ করেন, ‘অধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে উপজেলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূইয়ার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সান্টু ভূইয়া ষড়যন্ত্র করে ঝিলামকে দিয়ে আমাকে তার (ঝিলাম) টরকী বন্দরের বাসায় ডেকে নিয়ে আমার ও আমার ২ সমর্থকের ওপর হামলা চালায়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে আমার সমর্থক সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগে সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ ৩ নেতাকর্মীকে  পিটিয়ে আহত করে সান্টুর সমর্থকরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ সান্টু ভূইয়ার নেতৃত্বে ৩০/৪০টি মোটরসাইকেলযোগে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আমার মা মিনারা বেগমকে মারধর করে এবং ভাংচুর করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর হামলাকারীরা আমার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আমাকে খুঁজতে থাকে। সেখানে আমাকে না পেয়ে শ্বশুরবাড়ি ভাংচুর করে।’

হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নেই দাবি করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূঁইয়া বলেন, শুনেছি চাঁদার দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুজ্জামান ঝিলামের ওপর সুমন মাহমুদসহ অন্যান্যরা হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।

গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব হাওলাদার জানান, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার, এসআই সাধন কুমার মন্ডল, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই বাবুল আক্তার, কনস্টেবল মোঃ মাহাবুব, কনেস্টবল মোঃ আব্বাস, কনেস্টবল মোঃ নাইম আহত হয়েছে। উভয় পক্ষের ২০টি মোটরসাইকেল ও ২টি বাড়ি ভাংচুর করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪ জনকে আটক এবং ১৫টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

/এফএএন/

লাইভ

টপ