করোনা প্রতিরোধের ধারণা নেই উপকূলের ৪৯ শতাংশ নিম্নবিত্ত মানুষের

Send
আহাদ চৌধুরী তুহিন, ভোলা
প্রকাশিত : ২৩:৪৬, এপ্রিল ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩৮, এপ্রিল ২৪, ২০২০




 করোনা সংক্রমণ রোধে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার। এরপরেও উপকূল এলাকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে একেবারেই ধারণা নেই ৪৯ শতাংশ নিম্নবিত্ত মানুষের। আর ৭৪ শতাংশ মানুষ জানেন না আইইডিসিআর এবং এর সেবার বিষয়ে। উপকূল এলাকায় কাজ করা বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। কক্সবাজার ও ভোলা জেলায় দৈবচয়নের মাধ্যমে বাছাইকৃত নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করে কোস্ট ট্রাস্টের পরিবীক্ষণ ও গবেষণা বিভাগ।

জরিপ সম্পর্কে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, উপকূলের দরিদ্র মানুষ কীভাবে সম্পূর্ণ অজানা এই বিপর্যয় মোকাবিলা করছে, তা জানার জন্যই এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে উপকূলের নিম্ন আয়ের মানুষের প্রস্তুতি কেমন, কতটা সঠিক তথ্য তারা জানেন এবং সর্বোপরি কতটুকু তারা মানছেন বা মানতে পারছেন তা জানাই ছিল গবেষণার উদ্দেশ্য।

কোস্ট ট্রাস্টের পরিবীক্ষণ ও গবেষণা বিভাগ থেকে বলা হয়, উত্তরদাতাদের মধ্যে নারী ছিলেন ৪৭ শতাংশ এবং পুরুষ ৫৩ শতাংশ। উত্তরদাতা নারীদের ৮০ শতাংশ গৃহিণী এবং বাকিরা শিক্ষার্থী বা পড়াশোনার বাইরে থাকা কিশোরী ও বৃদ্ধা। জরিপে অংশ নেওয়াদের ১০ শতাংশ কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন ১৮ শতাংশ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ১৯ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ ছিল জেলে।

জরিপের জন্য উপকূলের দুটি জেলা হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রভাবিত কক্সবাজার এবং দ্বীপ জেলা ভোলা বাছাই করা হয়। এর বাইরে বিচ্ছিন্ন চর হিসেবে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং ভোলার চর মোতাহার বাছাই করা হয়। করোনাভাইরাস যেহেতু স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এ কারণে সরকারি-বেসরকারি সব প্রচারণায় নিয়মিত হাত ধোয়া এবং তার নিয়মকানুন সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তারপরও এই জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা হাত ধোয়ার মৌলিক বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানেন না। ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা হাত ধোয়ার বিষয়টি মেনে চলতে পারছেন না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কীভাবে ছড়ায় এমন প্রশ্নের উত্তরে দেখা যায় ২৬ শতাংশ মানুষের মাঝে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য ও লক্ষণ সম্পর্কে অবগত নন। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার শিষ্টাচার সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে দেখা যায়, ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা টিস্যু বা রুমাল অথবা কনুইয়ের ভাঁজের কথা উল্লেখ করেন। বাকি ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানেন না।

প্রায় শতভাগ গৃহিণী উত্তরদাতা জানান, তারা করোনাভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা বিষয়ক তথ্য সরাসরি পাননি। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে যারা বাইরে যান, তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জেনেছেন। জরিপে দেখা যায়, উপকূলের নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে ঘরে থাকা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব নয়। ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা বাজার করার জন্য এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় পর পর বাইরে যান। বাকি ৬৩ শতাংশ একদিন বা দুই দিন পর পর বাজারে যান।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্পর্কে ধারণা নেই ২৪ শতাংশ উত্তরদাতার। ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে তাদের এলাকার মসজিদে নিয়মিত মুসল্লির সংখ্যা কমেছে। ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, মসজিদে সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা হোম কোয়ারেন্টিন সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানেন না বা ভুল জানেন। মাস্ক কেন ব্যবহার করতে হয় এ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই ১৩ শতাংশের। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোস্ট ট্রাস্টের পরিবীক্ষণ ও গবেষণা বিভাগ থেকে বলা হয়, বাজারে সহজলভ্য মাস্কের দাম ৩০-৪০ টাকা, যা অনেক ক্ষেত্রে চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব না।

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ