আম্পানে যশোরে ৬ জনের মৃত্যু, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Send
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:৫৪, মে ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৪, মে ২১, ২০২০

যশোরে রাত একটায় আম্পান ঝড়ের তোপে উড়ে যায় একটি ঘরে চাল। (ছবি: নিজস্ব সূত্রে সংগৃহীত)


ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে যশোর। এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া গাছ ভেঙে বিভিন্ন সড়কে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অনেক জায়গায়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকালে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে যশোরে ছয় জন গাছ চাপায় মারা গেছেন। এরমধ্যে শার্শা উপজেলায় তিন জন, চৌগাছা উপজেলায় দুই জন এবং বাঘারপাড়ায় একজন রয়েছেন। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।

নিহতরা হলেন, শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান আলীর স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০), জামতলা এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫) ও শার্শা সদরের মালোপাড়া এলাকার সুশীল বিশ্বাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস (৫৫), চৌগাছা উপজেলার চানপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ হোসেনের স্ত্রী খ্যান্ত বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩) এবং বাঘারপাড়া উপজেলার বুদোপুর গ্রামের সাত্তার মোল্লার স্ত্রী ডলি বেগম (৪৮)।

এদিকে, গাছ উপড়ে ও ডাল ভেঙে সড়কে পড়ায় যশোরের সঙ্গে খুলনা ও সাতক্ষীরার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শহরের আমির হোসেন নামে একজন বলেন, ‘ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতি দেখতে সকালে বের হয়েছি। দেখলাম শুধু গাছ পড়ে রয়েছে। কিছু জায়গায় গাছ পড়ে প্রাচীর ভেঙে গেছে। এছাড়া আলগা টিনের ছাউনি উড়ে গিয়েছে। বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে গেছে। রাতে ঝড়ের যে গতি ছিল তাতে ভয় পেয়েছিলাম।’

ট্যাক্সিচালক আজিম জানান, সকালে সাতক্ষীরার জন্য একটি ভাড়া পান। কিন্তু বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ায় যশোর-বেনাপোল সড়ক এবং আশপাশের বিকল্প সকল পথ বন্ধ ছিল। কোনও ভাবেই যেতে পারেননি। ফলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। যে অবস্থা তাতে সড়ক পরিষ্কার হতেও দুই থেকে তিনদিন সময় লাগবে।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, গতরাত থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে গাছ পড়ার খবর পেয়েছি। যে কারণে খুব ভোর থেকে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে অনেক সড়কের গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি গাছগুলোও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলাগুলোতেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানিয়েছেন, আম্পানের কারণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী হবে।

এদিকে ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি জানান, যশোর জেলায় ১১শ' হেক্টর জমিতে পানের বরজ, ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আম ও লিচু এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি ক্ষেত রয়েছে। ঝড়ে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; তবে পরিমাণ এখনও নিরুপণ হয়নি। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের কাজ চলছে।

 

/এনএস/

লাইভ

টপ