ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন শেষ হলো নির্মম মৃত্যুতে

Send
বিজয় রায় খোকা, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত : ১৫:৫৯, মে ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৮, মে ৩০, ২০২০

বায়ে আহত সোহাগ (ফাইল ছবি), ডানে শোকতপ্ত পরিবার স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না কিশোরগঞ্জের ৯ যুবকের। লিবিয়ায় গত মঙ্গলবার ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে মানব পাচারকারীরা। হতভাগ্য মৃত ও আহতদের তালিকায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আট ও হোসেনপুরের এক যুবক।  

শনিবার সকালে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভৈরবের আট যুবকের মধ্যে পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তিন জন। এছাড়া হোসেনপুর উপজেলার একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মেহের আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন আকাশ, শ্রীনগর ইউনিয়নের বাচ্চু মিলিটারির ছেলে শাকিব ও শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামের মুখলেস মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী এবং ভৈরববাজারের অধির চন্দ্র ঋষির রাজন চন্দ্র ঋষি। আর নিহত শাকিলের এখনও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আহতরা হলেন, সাদেকপুর ইউনিয়নের মোটুপী গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে সৌরভ আহমেদ সোহাগ, শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জানু মিয়া ও পৌর শহরের জগনাথপুরের শফর আলীর ছেলে সজল মিয়া।

আহত সোহাগের বাবা আব্দুল আলী জানান, প্রায় এক বছর আগে স্বপ্নের দেশ ইতালি যেতে লিবিয়ায় পাড়ি দেন তার সন্তান। সেখানে কয়েক মাস থাকার পর উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের পূর্ব পাড়ার সোনা মিয়ার ছেলে তানজীরের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকার মাধ্যমে চুক্তি হয়। ইতালিতে পৌঁছানোর পর তাকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরপর থেকে তার সন্তান সোহাগের আর খোঁজ মিলছে না। তিনি আরও জানান, দেশের কিছু অসাধু দালালের খপ্পরে পড়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য জীবন বাজি রেখে টাঙ্গি দিয়ে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তাদের জিম্মি করে দেশে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে দালাল চক্রটি। একই সঙ্গে একটি কক্ষে জিম্মি করে বেধড়ক মারধর করে তারা। দালাল চক্রের কথামতো টাকা দিতে না পারায় আমার সন্তানকে হারালাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়া থেকে ইতালি যেতে আগ্রহী করে। পরে তাদের জিম্মি করে দালালরা ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে। আর তাদের কথামতো টাকা না দিলে বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে আটকে রেখে বাড়ি থেকে টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করে তারা। ফলে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার ভিটে মাটি বিক্রি করে দালালদের হাতে টাকা তুলে দেয়। এসব ঘটনায় অনেকেই এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।  

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান খালেদ মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে মানব পাচারকারীরা। এখন পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কিশোরগঞ্জের সর্বমোট কতজন নিহত এবং আহত হয়েছে। তবে, গতকাল থেকে আমরা কাজ করছি, আজ দিন শেষে আশা করছি সঠিক তথ্য জানা যাবে।

/এফএএন/এমএমজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ