চিকিৎসা সংকটে খুলনায় বাড়ছে মৃত্যু

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০০:৫০, জুন ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫০, জুন ২৫, ২০২০

খুলনায় চিকিৎসা সংকটে করোনা ও উপসর্গের ভুগতে থাকা রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালে করোনা ইউনিটে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না থাকা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, রোগী অনুপাতে চিকিৎসক কম থাকায় মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে করোনা সার্টিফিকেটের জটিলতা ও ব্যবসায়ীক মনোভাবকে দায়ি করছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত পর্যন্ত একদিনে খুলনায় সাত জনের মৃত্যু হয়। এ পর্যন্ত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে ৬৪ জনের মৃত্যু হলো। এর আগে গত ১৯ জুনও একদিনে এই হাসপাতালে সাত জনের মৃত্যু হয়েছিল।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ করে দেওয়ায় অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি প্রায় বন্ধ। ঝামেলা এড়াতে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে কয়টি ক্লিনিকে অপারেশন চালু আছে, সেখানে নানা সংকটের কথা জানিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

মহানগরীর শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা কামরুল হোসেন বলেন, ‘খুলনায় করোনা উপসর্গ জ্বর, সর্দি-কাশিতে ব্যবহৃত ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকের দাম কয়েক গুন বেড়েছে। ওষুধের সরবরাহ নাই জানিয়ে ফার্মেসিগুলো বেশি দাম নিচ্ছে। রোগীর সিটি স্ক্যানসহ সব ধরনের টেস্টের ব্যয়ও বেড়েছে। উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীর স্বজনরা।’

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত গৃহবধূ আবিদা বেগম (৪২) তিন দিন ধরে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না আসায় স্বজনরা তাকে মঙ্গলবার বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে রোগীর গায়ে জ্বর থাকায় কেউ ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। পরে ‘করোনা নেই’ সনদ দেওয়ার শর্তে খুলনার গাজি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, তিন দিন আগে খুমেক হাসপাতালে এই রোগীর সিটি স্ক্যান করা হয়, কিন্তু রিপোর্ট হাতে পাননি তারা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং না থাকায় বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবায় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর পেছনে বাণিজ্যিক মানসিকতা কাজ করছে। বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ করে দেওয়ায় করোনা আক্রান্ত না হয়েও অসংখ্য রোগী চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।’

খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে অর্ধশতাধিক করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তি রয়েছেন। অক্সিজেনের পরিমাণ যা আছে তা দিয়ে সামাল দেওয়া হচ্ছে। রোগী বেড়ে গেলে অক্সিজেন সংকট সৃষ্টি হতে পারে।’

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৪৫০টি ছোট, ১৫টি বড় এবং সম্প্রতি অক্সিজেন সরবরাহকারীদের নিকট থেকে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার লোন করা হয়েছে। এখন যা আছে তা যথেষ্ট নয়। রোগীর চাপ বাড়লেই সংকট সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৩৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই রোগীদের চিকিৎসা দিতে প্রতি শিফটে চার জন করে চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সকালে দুই জন, বিকালে ও রাতে একজন করে চিকিৎসক দিয়ে কাজ চালাচ্ছি। কোনও শিফটে চিকিৎসক শুন্য থাকে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও সুবিধা মতো সময়ে পরিদর্শনে যান। এখানে যারা আসেন তারা মরণাপন্ন অবস্থায় আসেন। তাই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। একটু সুস্থ অবস্থায় আসলে তাদের বাঁচানো সম্ভব।’

এদিকে, খুলনা জেলা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভায় নতুন করে খুলনায় ৪২ বেডের আরও একটি করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি খুলনা জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলায় স্থাপন করা হবে। 

/এনএস/

লাইভ

টপ
X