মৌলভীবাজার করোনা ও উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:৪৩, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৫, জুলাই ০২, ২০২০

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারে করোনা উপসর্গ নিয়ে পৃথক এলাকায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজনগর উপজেলার খারপাড়া (ফকিরটুলা) গ্রামে এরশাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি এবং তারও আগে গত রবিবার পৌর শহরের শমশেরনগর সড়কের বাসিন্দা শামসুল হক করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

রাজনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকতা প্রিয়াঙ্কা পাল জানান, মঙ্গলবার ৩০ জুন রাত ১১টার দিকে এরশাদ হোসেন নিজ বাড়িতে মারা যান। তিনি জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তাকরীম ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের সিনিয়র সদস্য মাওলানা হিফজুর রহমান  তার জানাজা পড়ান। পরে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন।

মৃত নিহত এরশাদ মিয়া রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৌলভীবাজার পৌর শহরের শমশেরনগর সড়কের শামসুল হকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নর্থইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. নাজমুল হক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামসুল হকের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে নর্থইস্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই রাতে তার মৃত্যু হয়।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, (১ জুলাই) বুধবার মৌলভীবাজার জেলায় প্রতিদিন করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ জনে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না কেউ। মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। কেনাকাটার সময় গাদাগাদি করে দাঁড়াতে দেখা গেছে। যানবাহনে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী পরিবহন চলছে। এক সিটে একাধিক যাত্রী বহন করছে। তবে জেলার ৫টি এলাকায় ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন চলছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. তাউহীদ আহমদ জানান, জেলার কুলাউড়ার তিনটি ও শ্রীমঙ্গলের দুই এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত মৌলভীবাজারে করোনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব না থাকায় রিপোর্ট আসতে সপ্তাহ থেকে দশ দিন লেগে যাচ্ছে। এখনও রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৫ জনের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মৃত্যুবরণ করেন ৭ জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। আরোগ্য লাভ করেছেন ২১৫ জন।

/টিএন/

লাইভ

টপ