ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবসায়ী শরীফ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবি

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:২১, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৫, জুলাই ০২, ২০২০

াাানারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ভোলাইল আদর্শ নগর গ্রামে গত ১ এপিল খুন হয় তরুণ ব্যবসায়ী শরীফ মাদবর। এ হত্যার ঘটনায় এজাহার দায়েরের পরে আশেপাশের কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ১১ জন হত্যাকারীকে শনাক্ত করে নিহতের পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ আগে দায়ের করা এজাহারের বাইরে কাউকে আসামি করা যাবে না বলে জানিয়েছে। এর প্রতিবাদে ও ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত সন্ত্রাসীদের আসামি করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শরীফের পরিবার ও এলাকাবাসী। এজাহারে উল্লেখ করা ও ভিডিও ফুটেজের এখনও ১৩ আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে নিহতের বাবা আলাল মাদবর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে বিএ অনার্স পাস। সে বিদেশে ছিল। করোনার আগে দেশে এসে বিয়ে করে। তাকে বিয়ের এক মাসের মধ্যে এলাকার সন্ত্রাসীরা তাদের কথা না শোনায় কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরে থানায় দেওয়া এজাহারে আমরা ১১ জনকে আসামি করি। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাৎ হোসেনকে। কিন্তু মামলার তদন্তে তাদের কোনও আগ্রহ নেই। আসামি গ্রেফতারে আমরা ফতুল্লা থানা পুলিশের কোনও সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। এই ১৭ জনের মধ্যে নয় জনের নাম এজাহারে রয়েছে। আটজনকে ভিডিও ফুটেজে দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। আসামিদের একজনকেও পুলিশ গ্রেফতার করেনি। নয়জন আসামিকে এলাকাবাসী ও দুইজনকে র‌্যাব ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আর এলাকাবাসী পরিবারকে চাপ দেওয়ায় ছয়জন আসামি আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ র‌্যাবের দুইজন ছাড়া বাকিদের নিজেরা গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করছে।’

নিহতের বাবা আরও বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা আরও এগারো জনের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের গ্রেফতারের লিখিত আবেদন করেছি ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো বলছে, ভিডিও ফুটেজে দেখা আসামিদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আমার ছেলের হত্যাকারীরা এলাকায় লালন-শাকিল গ্যাং হিসেবে পরিচিত। তারা কাশিপুরের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার শামীম আহমদের মদতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

নিহতের বাবা আলাল মাদবর জানান, পুলিশ আসামিদের না ধরলেও হত্যাকাণ্ডের পরে জনরোষের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের পরিবারকে এলাকায় নিরাপত্তা দিয়ে আনতে বেশ তৎপর। আসামিরা গ্রেফতারের বাইরে থাকায় তারা আমাকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি তিনটি জিডি করেছি। ফতুল্লা থানায় জিডি করতে গেলে চরম হেনস্তার শিকার হই। পুলিশ গ্রেফতার করা আসামিদের কারও রিমান্ড না চেয়ে আদালতে পাঠায়। কারও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের চেষ্টা করছে না।’ তিনি ছেলে হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিহত শরীফের বাবার অভিযোগের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক-অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, পুলিশের তদন্তে মোট ২৫ জন এ ঘটনায় জড়িত বলে আমরা জানতে পেরেছি। এজাহার, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মোট সতেরো জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।’ আরও কেউ যদি এ ঘটনায় জড়িত থাকে তবে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি।

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ