বগুড়া-১ আসনে উপনির্বাচন: প্রার্থীদের ভাবনায় ভোটারের মন

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩০, জুলাই ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৪, জুলাই ১০, ২০২০

বগুড়াবগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার)। সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে নির্বাচনি এলাকা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন সবাই। করোনা ও বন্যার অজুহাতে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচন তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান শিল্পী (নৌকা)। বিএনপির টিকিট পাওয়ার পর সরে দাঁড়ান একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ)। এছাড়া জাতীয় পার্টির অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম (লাঙল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের মো. রনি (বাঘ), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম (বটগাছ) এবং স্বতন্ত্র থেকে ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক) এই নির্বাচনে লড়বেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে হবে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

সরেজমিন ও এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি উপনির্বাচন বয়কট করায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কমে গেছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাহাদারা মান্নান, ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ, মোকছেদুল আলম, নজরুল ইসলাম ও মো. রনি সাধ্যমতো গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করছেন। মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাস নিয়ে এলাকায় শোডাউন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী তার স্বামীর অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ ও নতুন কাজের ঘোষণা দিচ্ছেন। অন্যরা নির্বাচিত হলে দুটি উপজেলায় বাঙালি ও যমুনা নদীর ভাঙনরোধ, বিভিন্ন উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাহাদারা মান্নান জানান, তার স্বামী আবদুল মান্নান পরপর তিনবার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। এ আসনের যত উন্নয়ন আব্দুল মান্নানের মাধ্যমে হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে মান্নানের অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করবেন, সধ্যমতো উন্নয়ন করবেন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম জানান, তিনি নির্বাচিত হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। গাবতলী থেকে সারিয়াকান্দি ও ধুনট হয়ে যমুনা সেতু পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন, বগুড়ায় বিমান বন্দর চালু, যমুনা ও বাঙালি নদীর তীর সংরক্ষণ, নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ, সারিয়াকান্দিতে সার কারখানা, নৌবন্দর স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন করবেন।

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের মো. রনি জানান, নির্বাচিত হলে তিনি সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিকে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করবেন। নদী ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। জনগণের নাগরিক অধিকারসমূহ যথাযথভাবে পূরণের চেষ্টা করবেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম বলেন, ‘নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেবেন, নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। চরাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবেন। অন্যায়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াবেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত দুটি উপজেলা গড়বেন। ঘুষ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজের ভাষ্য, নির্বাচিত হলে যমুনা ও বাঙালি নদীর ভাঙন থেকে সোনাতলা-সারিয়াকান্দিবাসীকে রক্ষা করার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে তুলে ধরবেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

অধিকাংশ ভোটারের অভিমত তারা উন্নয়নের সঙ্গে আছেন এবং থাকবেন। সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। তার স্ত্রী সাহাদারা মান্নান সব সময় আবদুল মান্নানের সঙ্গে থেকে তাকে কাজে উৎসাহিত করেছেন। সাহাদারা মান্নান সোনাতলার মেয়ে ও সারিয়াকান্দির পুত্রবধূ। তাই তারা কোনও বসন্তের কোকিলকে নয়; যিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবেন, তাকেই ভোট দেবেন। এ দিকে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভোট দানে বিরত থাকবেন। কেন্দ্রে গেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে রায় দিবেন।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মাহবুব আলম শাহ্ জানান, নির্বাচন গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ১২৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার ৮৯২ জন। গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ২৯ মার্চ উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও করোনা ও বন্যার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

 

 

/আরআইজে/আইএ/

লাইভ

টপ