মৌলভীবাজারে খোঁজ মেলেনি সাহেদের

Send
সাইফুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত : ১৩:১৭, জুলাই ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫০, জুলাই ১৪, ২০২০

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো.সাহেদ (ছবি রিজেন্ট গ্রুপের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত)করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতিতে অভিযুক্ত রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম মৌলভীবাজারে অবস্থান করছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতভর তৎপর ছিল জেলার সীমান্ত এলাকায়। সোমবার (১৩ জুলাই) সাহেদের ফোন ট্র্যাক করে তার খোঁজে জেলাজুড়ে তল্লাশি চালায় র‌্যাব ও পুলিশ। তবে এখনও সাহেদের কোনও খোঁজ মেলেনি। জেলার সব সীমান্তে চেকপোস্ট, রিসোর্ট, হোটেল-মোটেলে বিশেষ নজরদারি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

গোয়েন্দাদের ধারণা, সাহেদ হয়তো মৌলভীবাজারের পাহাড়ি এলাকার হোটেল-রিসোর্টে অবস্থান করতে পারে। অথবা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। গোয়েন্দাদের এমন আগাম খবরে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিশেষ নজরদারি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এদিকে সোমবার বিকাল থেকে ভারতের ত্রিপুরাগামী মৌলভীবাজার-চাতলাপুর সড়কের শমশেরনগর চৌমুহনী চত্বর ও লাউয়াছড়া সড়কের ফুলবাড়ী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সাহেদ সীমান্ত অতিক্রম করে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে রাতভর ছিল সাংবাদিকদের উপস্থিতিকমলগঞ্জ থানার একজন কর্মকর্তা জানান, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা কেলেঙ্কারি ঘটনার পলাতক প্রধান আসামি সাহেদ এ পথে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তপথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈইলাশহরে যেতে পারে–এমন সংবাদ রয়েছে। তাই সতর্কতাস্বরূপ যানবাহনে তল্লাশি করতে হচ্ছে। এ খবর পেয়ে সোমবার বিকাল ৫টার দিকে কমলগঞ্জ থানার শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আনজির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শমশেরনগর চৌমুহনায় দাঁড়িয়ে যানবাহনগুলো তল্লাশি করে।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, সাহেদ চাতলাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় প্রবেশ করতে পারে। তাই তাকে ধরার জন্য পুলিশ শমশেরনগরে নজরদারি চালাচ্ছে।’ সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের শমশেরনগর চৌমুহনায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘সাহেদ কমলগঞ্জে অবস্থান করছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে পুলিশ তৎপর ছিল।’

মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, সাহেদকে গ্রেফতারের জন্য মূলত র‌্যাব এ অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ তাদের সহায়তা করছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় যে সাহেদ এখন মৌলভীবাজারেই আছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। ধরলে তো আপনারাই জানবেন।’

র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের ডিএডি মো. জব্বার বলেন, ‘সাহেদ মৌলভীবাজার অবস্থান করছে এমন সংবাদ পাওয়ার পর পরই বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশও রয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল সেক্টরের ৪৬ বিজিবির কর্নেল মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা সাহেদকে নিয়ে তেমন নির্দেশনা পাইনি। রাষ্ট্র যদি কোনও নির্দেশনা দেয় অবশ্যই আমরা অ্যাকশন নেবো। আমরা সব সময় তৎপর আছি, কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। আমাদের এখানে অথেন্টিকভাবে দুটি জায়গা আছে, চাতলাপুর ও কুরমা চেকপোস্ট। ওই দুটি জায়গা ছাড়া বের হওয়ার পথ নেই। সেখানে আমাদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি থাকে। আমরা সব সময় তৎপর আছি।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে মো. সাহেদ পলাতক রয়েছে।

/এমএএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ