রংপুরে ধরা খেলো আরেক ‘বাটপার’!

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৫৪, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৭, জুলাই ১৫, ২০২০

রংপুরে গ্রেফতার হওয়া প্রতারক মো. রেজওয়ানুল হক

রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ ও জেকেজি’র সাবরিনার প্রতারণার খবরে দেশে যখন তুমুল আলোচনা চলছে তখন আরেক ‘বাটপারের’ খোঁজ পাওয়া গেছে রংপুরে। সে এমনই প্রতারক যে প্রতারণা করে পুলিশের হাতে ধরা পড়া জেকেজি’র সাবরিনার কাছে সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর সেজে তার ‘মুশকিল আছান’ করে দেওয়ার নামে টাকা দাবি করেছিল। এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শিক্ষা সচিবের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সচিবের পরিচিতদের কাছে এর-তার চিকিৎসা করার নমে টাকা চাইতো। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে। এই প্রতারকের নাম মো. রেজওয়ানুল হক। র‌্যাবের হাতে বন্দি হয়ে অকপটে সব স্বীকারও করেছে সে।

র‌্যাব-১৩, রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মো. হাফিজুর রহমান বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রেজওয়ানুলকে  গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার বিকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাদিরাবাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রতারক মো. রেজওয়ানুল হককে।  

তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনের নামে দুটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে শত শত মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। 

 র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছিল রেজওয়ানুল। মেসেঞ্জারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের নেতানেত্রীদের বিভিন্ন কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া, ত্রাণসামগ্রীর অনুমোদন পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধার নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করতো সে। টাকা পাঠানোর জন্য ডাচবাংলা ব্যাংকের একটি হিসাব সরবরাহ করা হতো। এমনকি ভুয়া করোনা সনদ প্রদানের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর সঙ্গেও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে বর্তমান সংকট থেকে তাকে উদ্ধারের বিনিময়ে টাকা দাবি করেছিল রেজওয়ানুল। এরপরই তাকে আটকের ব্যাপারে আরও তথ্য জোগাড় করে র‌্যাব।

অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনের নামে ফেসবুকে আরেকটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ওই প্রতারক দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে প্রতারণা করে আসছিল। ফেসবুকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ৪০০-৫০০ শিক্ষক ও শিক্ষা সচিবের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির অসুস্থতা ও অপারেশনে বহু টাকা খরচ হবে ইত্যাদি বলে অনুদান চাইতো প্রতারক রেজওয়ানুল। এসব শিক্ষকের মধ্যে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য যেমন রয়েছেন, তেমনি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সদস্যরাও রয়েছেন। এক্ষেত্রে অনুদান পাঠানোর জন্য সে একটি ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর সরবরাহ করতো। তদন্তে দেখা যায়, সরল বিশ্বাসে প্রতারিত শিক্ষকরা তাকে সত্যিকারের শিক্ষা সচিব ভেবে বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা পাঠিয়েছেন। এছাড়াও সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে দেওয়া, লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং করে দেওয়া, পদোন্নতি দেওয়া, পরীক্ষার ফল পরিবর্তন করে দেওয়া, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা ইত্যাদি প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে।

প্রতারক রেজওয়ানুল হকের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী গ্রামে। তার বাবার নাম আল আমিন বলে র‌্যাব জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অকপটে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেনম গ্রেফতারকৃত এই প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিবের নিজের ফেসবুকে দেওয়া সচেতনতামূলক স্ট্যাটাস

এ বিষয়ে ফেসবুকে পর পর দুইবার পোস্ট দিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করেছিলেন শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ বিষয়ে সবাইকে সাবধান করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দুইবার পোস্ট দিয়েছিলাম। প্রতারক ধরা পড়ায় খুশি হয়েছি।

আর সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বলেন, আমি ব্যাপারটা জানতাম না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে খুবই ভালো কাজ করেছে।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ