বানের পানিতে ভাসছে রৌমারী, জীবন বাঁচাতে ছুটছে মানুষ

Send
আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত : ১৫:৩৩, জুলাই ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৬, জুলাই ১৬, ২০২০

৩ব্রহ্মপুত্র আর সোনাভরির উগরে দেওয়া পানিতে প্লাবিত হয়ে বানের পানিতে ভাসছে পুরো কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা। বুধবার (১৫ জুলাই) শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে বানের পানি প্রবেশ করায় উপজেলা শহরসহ গ্রামের পর গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় জীবন বাঁচাতে সংসারের জিনিসপত্র ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটছে মানুষ। উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় গুটিকয়েক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর রৌমারী-ঢাকা মহাসড়ক বানভাসিদের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রৌমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থায় জরুরি ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই।

৫চেয়ারম্যান বলেন, ‘রৌমারী শহররক্ষা বাঁধ প্রতিবছর বন্যার পানিতে ভেঙে যায়। রাতের আঁধারে মানুষ জীবন বাঁচাতে পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে ছোটাছুটি করে। এমন অপরিকল্পিত বাঁধ রৌমারীবাসী আর চায় না। আমরা স্থায়ী, মজবুত ও প্রশস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চাই। যাতে প্রতিবছর জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।’

রৌমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা সাঈদ কাকন জানান, উপজেলার ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রৌমারী বাজারও এখন পানির নিচে। বেশির ভাগ স্কুল কলেজে পানি। যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাকি আছে বানভাসিরা সেখানে আশ্রয় নিচ্ছে। এছাড়াও সড়কে খোলা আকাশের নিচে পরিবারসহ আশ্রয় নিচ্ছেন বানভাসিরা। এসব মানুষের জন্য এখন ছাউনি ও শুকনো খাবার প্রয়োজন।

২রৌমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু বলেন, ‘উপজেলা শহরসহ পুরো উপজেলা এখন পানিতে ভাসছে। আমার ইউনিয়নের ৫৮টির মধ্যে প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত। মানুষ জীবন বাঁচাতে সড়কে আশ্রয় নিচ্ছে। ত্রাণ সহায়তা অপ্রতুল।’

৪উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে উপজেলার অবস্থা সঙ্গিন। এ অবস্থায় ত্রাণ সহায়তা চলমান রয়েছে। তবে সড়ক ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের শুকনো খাবারসহ টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে স্বীকার করেন ইউএনও।

ইউএনও বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার বিকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন মহোদয় বন্যা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জরুরি সভা ডেকেছেন। সভায় বানভাসিদের সহায়তা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।’

১প্রসঙ্গত, চলমান বন্যায় কুড়িগ্রামের ৫৬টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা ও তিস্তা অবাহিকার এসব মানুষ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার মেয়াদকাল আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এসব নদ-নদী অববাহিকার বাসিন্দারা।

/এমএএ/

লাইভ

টপ