মৌলভীবাজারে শেষ মুহূর্তে জমেছে পশুর হাট

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:০২, জুলাই ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১২, জুলাই ৩১, ২০২০



পশুর হাটশেষ মুহূর্তে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) হাটে অনেক ক্রেতা থাকলেও পশু পর্যাপ্ত ছিল না। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে এবার অনেকেই হাটে পশু কিনতে আসেননি। এতে করে এ বছর বিরাট ক্ষতি হয়েছে। শেষদিন পর্যাপ্ত ক্রেতা ও বিক্রি ভালো হলেও এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন তারা।

জেলার বিভিন্ন পশুর হাটের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক চেম্বার স্থাপন করা হয়। হাটের অভ্যন্তরে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

জেলার পৌরসভার আওতায় এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামের বাইরে পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া শ্রীমঙ্গল পশুর হাট, কমলগঞ্জের আদমপুর ও শমশেরনগর, রাজনগর কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় হাট বসেছে।

মৌলভীবাজার পশুর হাটমৌলভীবাজার পশুর হাটের ইজারাদার আতাউর রহমান বলেন, ‘গত বছর এই সময় পশু বেচা-কেনা জমজমাট ছিল। তবে এবার করোনার কারণে অনেকেই হাটে পশু কিনতে আসেননি। এতে করে এ বছর বিরাট ক্ষতির সস্মুখীন হয়েছেন খামার মালিক ও ব্যবসায়ীরা। শেষ সময়ে ক্রেতা থাকলেও ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব না।’

মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমান জানান, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়।

বেপারী শিপন আহমদ বলেন, দুটি গরু নিয়ে পশুর হাট নিয়ে গিয়েছিলাম। শেষ সময়ে ক্রেতা থাকলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।

মৌলভীবাজার পাগুলিয়া এলাকা থেকে আসা রিপন মিয়া বলেন, ‘হাটের অবস্থা তেমন বালা নায়। আমার ঘরর গরু, অফেক্ষায় আছি বালা দাম ফাইলে বেচিলাইমু।’

জেলার নাজিরাবাদ এলাকা থেকে আসা সাদিক মিয়া হাটে পাঁচটি গরু তুলেছেন। এর মধ্যে লোকসান দিয়ে মাত্র একটি বিক্রি করতে পেরেছেন। কী কারণে তিনি লোকসানে বিক্রি করলেন জানতে চাইলে বলেন, করোনার কারণে মানুষ অভাবে আছে। সবই কম-বেশি রুজি-রোজগার করতে পারে না। বাজারের অবস্থাও ভালো না, সব গরু বিক্রি করতে পারবো বলে মনে হয় না।

পশুর হাটমৌলভীবাজার স্টেডিয়াম পশুর হাটের পরিচালক জুয়েল আহমদ জানান, হাটে এবার গরু কম। করোনার কারণে গরু বেশি ওঠেনি, আর দেশে বন্যা থাকায় পাইকাররা গরু নিয়ে আসতে পারেননি। ফলে আমরা লসে আছি। হাটে ক্রেতার সংখ্যাও কম ছিল। শেষ সময়ে ক্রেতা থাকলেও গরু কম।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫০ হাজার ৯৭২টি গরু-মহিষ ও ১৯ হাজার ৩২৮টি ছাগল-ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। কিন্তু জেলায় মোট গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯৫ হাজারেরও বেশি। এছাড়া ফেসবুক পেজের মাধ্যমে স্মার্ট হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ