‘অতিরিক্ত মদ পানে’ এক ভাইয়ের মৃত্যু, আরেকজন হাসপাতালে

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:০৭, আগস্ট ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৯, আগস্ট ০৩, ২০২০

মদ পানে মৃত্যুখুলনায় অতিরিক্ত মদ পানে এক ভাইয়ের মৃত্যু ও আরেক ভাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ও এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলাম এবং একই ডিসিপ্লিনের প্রফেসর মাহতালাত আহমেদের সন্তান। এর মধ্যে ছোট ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী অর্ঘ সোমবার (৩ আগস্ট) ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আর বড় ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোরেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক মদ পানের কথা বললেও পরিবারের লোকজন বলছেন, বিষয়টি ‘ফুড পয়জনিং’।

গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সান (২২) ও তার ছোট ভাই অর্ঘকে (১৮) অসুস্থ অবস্থায় গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে ভর্তি হওয়ার পর তাদের হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। ডা. সালমানের তত্ত্বাবধানে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সোয়া ৪টার দিকে অর্ঘ মারা যায়। এরপর সানকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ এর ডা. সালমান জানান, ‘মারা যাওয়া রোগী অর্ঘ অতিরিক্ত মদ পান করেছিল বলে নমুনা পাওয়া গেছে। এরপর জিজ্ঞাসা করলে পরিবারের সদস্যরা জানান, একদিন আগেই মদ পানে অসুস্থ ছিল তারা। বমিও করেছিল। স্থানীয়ভাবে ওষুধ খাচ্ছিল দুই ভাই। অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ার পর হাসপাতালে আনে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।’ 

অর্ঘ’র ফুফু রূমানা ইসলাম বলেন, ‘অর্ঘ’র প্রথমে ফুড পয়জনিং হয়। তারপর বমি হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর পানি শূন্যতায় মারা যায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপসহকারী কমিশনার (সদর) ও মিডিয়া উইং প্রধান কানাই লাল সরকার জানান, ‘অতিরিক্ত মদ পানে মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানা নাই। খোঁজ নেবো।’

খুলনা সদর খানার ওসি আশরাফুল আলম জানান, ওই পরিবারের পক্ষ থেকে আজ এক আবেদন করে জানানো হয়েছে, তাদের এক ছেলে রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি চাওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে লাশ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।   

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক প্রেস বার্তার মাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য হিসেবে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতে খাওয়ার কিছু সময় পর শিক্ষক দম্পতির দুই ছেলে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ছোট ছেলে অর্ঘের অবস্থা খারাপ হলে তাকে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর রাত সোয়া ৪টায় অর্ঘ মৃত্যুবরণ করে। জ্যেষ্ঠ সন্তান খুবির সিএসই ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানকেও গাজী মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

অর্ঘর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের এই শিক্ষক দম্পতির মেধাবী সন্তানের মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতির। গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সবার জন্য এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি এই শিক্ষক দম্পতির সন্তানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারর্বগের প্রতি সমবদেনা জ্ঞাপন করনে। অসুস্থ সানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

অনুরূপভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. রায়হান আলী, সাইটে স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. উত্তম কুমার মজুমদার, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর এস এম জাহিদুর রহমান, কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. শেখ মো. রজিকুল ইসলাম, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর মোছা. তাসলিমা খাতুন, আইন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. ওয়ালিউল হাসানাত, শিক্ষা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এ কে ফজলুল হক, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য ডিসিপ্লিনের প্রধানরা এবং কর্মকর্তা, কর্মচারীরা শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আশীষ কুমার দাস।

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ