নদীতে কোরবানির চামড়া ফেলা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৩৬, আগস্ট ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৭, আগস্ট ০৪, ২০২০




সঠিক দাম না পেয়ে পদ্মা নদীতে ফেলা হয় এক ভ্যান ছাগলের চামড়াকোরবানির পশুর সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ঈদের পর দিন রবিবার (২ আগস্ট) রাজশাহীর সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী পদ্মা নদীতে এক ভ্যান ছাগলের চামড়া ফেলে দেন। সেই ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

রবিবার সকালেই নদীতে চামড়া ফেলে দেওয়ার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। সংবাদ প্রকাশ হয় গণমাধ্যমেও। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তের জন্য ওইদিনই রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি টিমকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টির সরেজমিন তদন্ত করেন। পরে সেদিনই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল হক বলেন, যিনি চামড়া নদীতে ফেলেছেন তিনি রাজশাহীর একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। চামড়া কেনাবেচা কিংবা সংরক্ষণে তার অভিজ্ঞতা নেই। তিনি ছাগলের চামড়া কেনার পর নাটোর ও রাজশাহীতে বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্রি করতে পারেননি, সংরক্ষণ করতেও জানেননি। তাই চামড়ায় পচন ধরে। এ কারণে তিনি নদীতে ফেলে দেন।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চামড়া নদীতে ফেলা হয়েছে। সে কারণে ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি চামড়া বিক্রি করতে না পারলে আমাদের জানাতে পারতেন অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলতে পারতেন। তিনি নদীতে চামড়া ফেলে পরিবেশের দূষণ করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদফতরকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের রাজশাহীর উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে দূষণ আসলেই হয়েছে কিনা সেটা আগে দেখতে হবে। সে জন্য নদীর যে স্থানে চামড়া ফেলা হয়েছে সেখানকার পানি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই পানি পরীক্ষার জন্য বুধবার বগুড়ার ল্যাবে পাঠানো হবে।

নদীর স্রোতে চামড়া ফেলার দুই দিন পর সেখানকার পানিতে দূষণের মাত্রা বোঝা যাবে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘সেটা পরীক্ষার পরই বলা যাবে। এটা আমাদের প্রক্রিয়া। আমরা আইন অনুযায়ী পানি পরীক্ষা করছি।’ পানি পরীক্ষার পর যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন পিন্টুর দাবি, আমি রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সদস্য। আমি গরুর চামড়া ক্রয় করি, ছাগলের না। প্রতিহিংসাবশত কেউ আমার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে তথ্য দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেগুলো বেশি পচে গেছে, সেসব চামড়া নতুন নতুন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ফেলে দিয়েছেন। এরমধ্যে নগরীর গুড়িপাড়া এলাকার আজাদ রয়েছে। তার পিতার নাম মৃত পিতা আজিম। 


আরও পড়ুন:
দাম না পেয়ে কোরবানির পশুর চামড়া ফেলা হলো পদ্মায়!

/টিটি/

লাইভ

টপ