সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা হত্যা: ৯ জনকে আসামি করে মামলা

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৩৯, আগস্ট ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪২, আগস্ট ০৫, ২০২০

BT-Newকক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সহ নয় জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

টেকনাফ থানার ওসি ছাড়াও মামলায় আসামি করা হয়েছে– টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) লিয়াকত আলী, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, এসআই টুটুল, কনস্টেবল মো. মোস্তফা। তারা সবাই টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ওইদিন রাতে কর্মরত ছিলেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা জানিয়েছেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানাকে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য র‌্যাবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ৩১ জুলাই রাতে একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিওচিত্র ধারণ শেষে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিজস্ব প্রাইভেটকার নিয়ে টেকনাফের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পৌঁছান। এ সময়  ১নং আসামি লিয়াকত ও ৩নং আসামি এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত গাড়ির গতিরোধ করলে মেজর সিনহা নিজের পরিচয় দেন। এরপরও সিনহার সঙ্গে থাকা ক্যামরাম্যান সিফাতকে টানা-হেঁচড়া করে গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলে। এ সময় সিফাত দুই হাত উঁচু করে গাড়িতে বসে থাকা সিনহার পরিচয় দেন। পরিচয় দেওয়ার পরও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, ‘তোর মতো মেজর অনেক দেখেছি’ বলে সিনহাকেও গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলে। মুহূর্তে কয়েক রাউন্ড গুলি করলে সিনহা মাটিতে পড়ে যান। এ সময় মেজর সিনহা জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে চেপে ধরে পুনরায় মাটিতে ফেলে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য লিয়াকত আরও এক রাউন্ড গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে টেকনাফ থানা পুলিশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে লিয়াকত মৃত্যু ধাপাচাপা দেওয়ার জন্য ইয়াবা, গাঁজা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে দুটি মামলা দায়ের করে। 

মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘ওসি প্রদীপের নির্দেশনা মতে এসআই লিয়াকত ঠান্ডা মাথায় গুলি করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। পরে আমার ভাইয়ের শরীরে ও মুখে বিভিন্ন জায়গায় পা দিয়ে লাথি মেরে মুখ বিকৃত করার চেষ্টা করে। এ সময় অন্য আসামিরা তাদের সহযোগিতা করে। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি চাই আমার ভাইয়ের হত্যাকারীরা আইনের আওতায় আসুক। দোষিদের শাস্তি কামনা করছি।’

গত ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

/এমএএ/

লাইভ

টপ