বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকসহ চার জনের মৃত্যু

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০৪, আগস্ট ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৪, আগস্ট ০৬, ২০২০

করোনাভাইরাসবগুড়ায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল এবং টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ (টিএমসি) ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল আইসোলেশনে তাদের মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
টিএমসি ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহিম রুবেল জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জের আটমুল ইউনিয়নের আতাহার গ্রামের বাসিন্দা মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক সুবেদ আলী (৪২) করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২১ জুলাই রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। ২২ জুলাই পাওয়া রিপোর্টে তিনি করোনা শনাক্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ১০টার দিকে মারা যান। একই হাসপাতালে এদিন রাত সোয়া ৮টায় মারা যান সুফিয়া খাতুন (৫৩) নামে এক গৃহবধূ। তিনি রাজশাহীর কাজলা এলাকার মুন্নাফের মোড়ে বসবাস করতেন। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ৬ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন পাওয়া নমুনার ফলে তিনি করোনা পজিটিভ হন।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অল্টারনেটিভ মেডিক্যাল কেয়ারের পরিচালক ডা. এফবিএম আবদুল লতিফ (৫৯) ঈদের ছুটিতে বগুড়া শহরের মালতিনগরের বাড়িতে আসেন। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ৪ আগস্ট বিকালে শজিমেক হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে মারা যান। তার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও ক্লিনিক্যাল পজিটিভ ধরা হচ্ছে।

অপরদিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা গ্রামের গৃহবধূ রূপালী খাতুন (২৫) করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ৫ আগস্ট বেলা পৌনে ১১টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান।

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃতদের জানাজা, দাফন ও সৎকার করে আসছিল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঈদের আগে থেকে তারা এ কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করছেন। সংগঠনের বগুড়া শাখার সংগঠক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, তাদের সবাই নানা কাজে সম্পৃক্ত। ব্যস্ততার কারণে এখন মৃতদেহ প্রস্তুত, জানাজা ও দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শুক্রবার থেকে আগামী ১০ দিন সীমিত পরিসরে সার্পোট দেওয়া হবে।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ জন। এ নিয়ে গত ১ এপ্রিল থেকে জেলায় পাঁচ হাজার ৫৯ জন করোনা আক্রান্ত হলেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১১২ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৭৭২ জন। বর্তমানে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন এক হাজার ১৬৫ জন।

/আরআইজে/

লাইভ

টপ