অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ: তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
১০ আগস্ট ২০২০, ২০:৫৯আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ২১:০৪

গাইবান্ধায় হাসপাতালের ভেতর শিশুর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের অভিযোগ  
বকশিস না পেয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ায় গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে এক মাস বয়সী একটি শিশু মারা গেছে এমন অভিযোগ করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ।

তিনি জানান, শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. খায়রুন নাহারকে। এছাড়া আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদকে সদস্য সচিব ও ইএমও ডা. সুমন কুমার প্রামাণিককে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিতে আগামী তিন কর্মদিবসের ভেতরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যদিও শিশুর স্বজনরা রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঘটনাটি সাংবাদিকদের অবগত করেন।

শিশুটির স্বজনরা জানান,, শিশুটির অসুস্থতার কারণে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এসে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। শিশুটির শ্বাসকষ্ট হওয়ায় কিছুক্ষণ পর তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শনিবার দুপুরে আমার এক মাস বয়সী সন্তানকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত নার্স ও আয়ারা আমার কাছে বকশিস দাবি করেন। নামাজের সময় হওয়ায় আমি নামাজ পড়তে যাই। তখন তারা অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেয়। এই ফাঁকেই দায়িত্বরত আয়া বা নার্সদের কেউ শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুটির অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

ঠিকমতো চিকিৎসা না পেয়ে শিশুটির এমন মৃত্যুর এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তার স্বজনরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘সমুদ্রসীমা ও নৌপথ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হতে পারে’
‘সমুদ্রসীমা ও নৌপথ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হতে পারে’
হজ এজেন্সিগুলোকে যে নির্দেশনা দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়
হজ এজেন্সিগুলোকে যে নির্দেশনা দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়
জিয়াউলের আহসানের বিচার বিলম্বের চেষ্টা চলছে, অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটরের
জিয়াউলের আহসানের বিচার বিলম্বের চেষ্টা চলছে, অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটরের
মালয়েশিয়ায় এক সমঝোতা স্মারক সই
মালয়েশিয়ায় এক সমঝোতা স্মারক সই
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ছেলে আটকের পর বহিষ্কার, যুবদল বলছে অপকর্মের দায় নেবে না
এমপির ছেলে আটকের পর বহিষ্কার, যুবদল বলছে অপকর্মের দায় নেবে না
‘অভিমানী’ সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে
‘অভিমানী’ সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে
যেসব অভিযোগে এমপির ছেলে আটক
যেসব অভিযোগে এমপির ছেলে আটক
হেফাজত মর্মাহত, খেলাফত দেখছে ষড়যন্ত্র, জামায়াত বলছে উচিত হয়নি
ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার নিয়ে ইসলামি দলগুলোর প্রতিক্রিয়াহেফাজত মর্মাহত, খেলাফত দেখছে ষড়যন্ত্র, জামায়াত বলছে উচিত হয়নি
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ আর নেই
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ আর নেই