প্রশাসনের অভিযানের পরও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত দিনাজপুরে

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪২, আগস্ট ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫৫, আগস্ট ১৩, ২০২০

অনেকেই রাস্তায় বের হচ্ছেন মাস্ক না পরেকরোনার সংক্রমণ রোধে দিনাজপুরে চলছে শতভাগ বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের বিশেষ কার্যক্রম। এই কার্যক্রমে জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে প্রশাসন। সহযোগিতায় মাঠে নেমেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। কিন্তু এরপরেও মাস্ক ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব নেই অধিকাংশ মানুষের। হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪০ ভাগ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করছেন না, করলেও সেটির সঠিক প্রয়োগ নেই।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৭ আগস্ট সকাল থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার কার্যক্রম অভিযান শুরু হয়। যেখানেই যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন না তাদের মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করছেন তারা, চালাচ্ছেন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরদিন ৮ আগস্ট থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করে প্রশাসন। এর আগে গত ৬ আগস্ট করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৪ দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে প্রশাসন। রাস্তা, বাজার, দোকানসহ বিভিন্ন এলাকায় আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে। এরপরও মাস্ক ব্যবহার করছেন না অনেকে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর বাহাদুরবাজার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে আসা প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। প্রায় ১০ শতাংশ মানুষের মাস্ক রয়েছে থুতনির নিচে। এমন একজন অটোরিকশা চালক মনসুর আলী। প্রায় ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, সব সময় মাস্ক পরে থাকলে নিশ্বাসে সমস্যা হয়, তাই একটু আগে এভাবে নিয়েছি। কথা বলতে বলতেই তিনি মাস্কটি সঠিকভাবে পরিধান করেন। এভাবে ব্যবহার করা বিপজ্জনক জানালে তিনি বলেন, কাকে কখন করোনা ধরবে এটা তো বলা যায় না।
লিলির মোড় এলাকায় কথা হয় কলেজ পড়ুয়া রিফাত ইসলামের সঙ্গে। বলেন, আমরা যারা মাস্ক ব্যবহার করছি তারা নিরাপদ বলে মনে করতে পারি না। কারণ, যারা ব্যবহার করছেন না তাদের জন্যই আমরা অনেকটা ঝুঁকিতে থাকি। সবাই যদি মাস্ক ব্যবহার করি তবে সবাই ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারবো। এজন্য সবারই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
সেখানেই কথা হয় সাইকেলে আসা নরেন চন্দ্র দাসের সঙ্গে, ‘আমার বাড়ি নুলাইবাড়ী। সেখান থেকে এসেছি। গ্রামে মাস্ক ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি নেই। এখানে এসে শুনলাম মাস্ক ব্যবহার না করলে জরিমানা করা হয়। তাই শহরে প্রবেশের আগেই একটি মাস্ক কিনে পরেছি। মাস্ক ব্যবহার করা ভালো, এতে করে ধুলা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
মাস্ক না পরেই দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন তারালিলি মোড় দিয়ে মাস্ক ছাড়াই হেঁটে চলা একজন বলেন, মাস্ক পরি, কিন্তু এখন নাই। কেন নাই? এমন প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না দিয়েই হাঁটা শুরু করেন তিনি।

দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল মোড় এলাকায় কথা হয় মাস্ক ছাড়া হেঁটে চলা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। বলেন, ‘মাস্ক পরি। কিন্তু অস্বস্তি লাগে তাই এখন পরিনি।’ তবে পকেটে মাস্ক আছে বলে জানান তিনি। 

কলেজ মোড়ে দেখা যায় প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তার মুখে মাস্ক নাই, আবার খোলা এলাকাতেই পেয়ারা খাচ্ছেন। তিনি বলেন, পেয়ারা কিনে সেটি ধুয়ে তারপর খাচ্ছি। খাওয়ার সময় কীভাবে মাস্ক পরবো? আপনার ব্যবহার করা মাস্কটি কই? এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি। এ সময় নাম জিজ্ঞাসা করলেও বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।


এর আগে দিনাজপুর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, মানুষ যাতে করোনায় সংক্রমিত না হয় সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শতভাগ মাস্ক ব্যবহারের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যাতে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যায়। আমরা আশা করছি আগামী দিনগুলোতে সচেতনতার মাধ্যমে সবাই মাস্ক ব্যবহার করবে। শতভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলে করোনার সংক্রমণ অনেকাংশে কমে আসবে।

এদিকে, দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ১১ আগস্ট পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ২ হাজার ২৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে মারা গেছেন ৪৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৩ জন। বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬১ জন। জেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সদর উপজেলায়। মোট আক্রান্তের মধ্যে ১ হাজার ২ জনই সদরের। বাকি ১২ উপজেলায় আক্রান্ত ১ হাজার ২৩৫ জন।

/আরআইজে/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ