অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে ডাকা শুনানিতে যাচ্ছেন না রাবি ভিসি

তৌসিফ কাইয়ুম, রাবি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৪৫আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৫৬

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসির) ডাকা শুনানিতে অংশগ্রহণ করবেন না উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। বাংলা ট্রিবিউনকে উপাচার্য নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাবি উপাচার্য বলেন, আমি ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে কর্তৃত্ববিহীন কমিটির তদন্ত বন্ধ করতে অনুরোধ করেছি। কারণ ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠনের এখতিয়ার নেই। কমিটি গঠনে কমিশনের যে অ্যাক্ট, সেই অ্যাক্টে এই ক্ষমতা নেই। তাছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন করতে হলে উপাচার্যের মর্যাদার এক ধাপ ওপরের পদমর্যাদার সদস্যদের দিয়ে করতে হবে। যেহেতু ইউজিসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দেয় ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে আন্দোলনরত সাবেক ভিসি মিজানউদ্দীনপন্থী শিক্ষকরা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোকারী শিক্ষকদের চার জনের প্রতিনিধি দল এবং ১৯ সেপ্টেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে শুনানির জন্য ডাকে। শুনানির আয়োজনকে অভিযোগকারী শিক্ষকরা স্বাগত জানান।

তবে ৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির ডাকা গণশুনানিকে বেআইনি, আদালত অবমাননাকর ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্বের শামিল বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান।

এদিকে ইউজিসির চেয়ারম্যান বরাবর উপাচার্যের পাঠানো চিঠিকে স্ববিরোধিতা বলে মনে করছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা। তারা বলছেন, উপাচার্য নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে তদন্ত কমিটি করেছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের একজন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান আমার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন হেকেপের লাইব্রেরি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে। তদন্ত কমিটিতে যারা ছিল সবাই আমার জুনিয়র। অথচ এখন উপাচার্য নিজের বেলায় এসে পদমর্যাদার বিষয়টি সামনে আনছেন যা স্ববিরোধিতা।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, ক্রপ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগর, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জিন্নাত আরা ও সোলাইমান চৌধুরী।

সোলাইমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা শুনানিতে অশংগ্রহণ করবো। ৩০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রেই আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তারপরেও ইউজিসির যদি কোনও জিজ্ঞাসা থাকে তা উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরানের সঙ্গে চুক্তি, নাকি দ্রুত ধ্বংস?, জাতিসংঘে ট্রাম্পের প্রশ্ন
ইরানের সঙ্গে চুক্তি, নাকি দ্রুত ধ্বংস?, জাতিসংঘে ট্রাম্পের প্রশ্ন
জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক
আলোচিত সেই দুই হোটেল বন্ধের নির্দেশ
আলোচিত সেই দুই হোটেল বন্ধের নির্দেশ
ঢামেকে এক কারাবন্দির মৃত্যু
ঢামেকে এক কারাবন্দির মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, যোগদানের ২০ দিনের মাথায় এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, যোগদানের ২০ দিনের মাথায় এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে
‘শিগগিরই চার টুকরোয় ভাঙবে উত্তর প্রদেশ’
‘শিগগিরই চার টুকরোয় ভাঙবে উত্তর প্রদেশ’
বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি
বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি