‘ইউজিসির শুনানিতে অংশ না নিয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছেন উপাচার্য’

Send
তৌসিফ কাইয়ুম, রাবি
প্রকাশিত : ২১:১৫, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২০, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

রাবি উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানঅনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ডাকা শুনানিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান অংশগ্রহণ না করায় হতাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী সিনিয়র শিক্ষকরা। তারা বলছেন উপাচার্যের উচিত ছিল শুনানিতে অংশ নেওয়া। তার শুনানিতে অংশ না নেওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লস অব ফেস হতে পারে। যেহেতু সরকারের আদিষ্ট হয়ে ইউজিসি এ তদন্ত করছে, সেক্ষেত্রে সেখানে না যাওয়ার মাধ্যমে সরকারকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন। সরাসরি সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করলে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিকতর মানহানিকর হতো বলেও মনে করেন তারা।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, উপাচার্যের শুনানিতে অংশ নেওয়া উচিত ছিল। এতে করে দুই পক্ষের তথ্য উপস্থাপনের ফলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসতো। শুনানিতে না যাওয়ার ফলে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো। একদিক থেকে উপাচার্যের শুনানিতে অংশ না নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকেও অবমাননা করার শামিল বলেও মনে করেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের এ সদস্য।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ রাবি উপচার্য ও উপ-উপাচার্য বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ ১৭টি অভিযোগ ইউজিসির কাছে দাখিল করে। অভিযোগ আমলে নিয়ে কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাদী পক্ষের চার সদস্যের একটি দলকে ডেকে শুনানি করে।

১৯ সেপ্টেম্বর বিকালে রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে শুনানির জন্য ডাকা হলেও তাদের কেউ শুনানিতে অংশ নেননি। এদের মধ্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া অসুস্থতার কথা জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে ‘ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠন করার এখতিয়ার নেই। তদন্ত কমিটি গঠন করতে হলে উপাচার্যের মর্যাদার একধাপ ওপরের পদমর্যাদার সদস্যদের দিয়ে করতে হবে। ইউজিসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে এর ব্যত্যয় ঘটেছে।’ এসব অভিযোগ করে শুনানিতে অংশ না নেওয়ার কথা জানান উপাচার্য ।

এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসির চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে শুনানির আয়োজনকে ৭৩ এর অধ্যাদেশের কথা উল্লেখ করে বেআইনি, আদালত অবমাননাকর ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্বের শামিল বলে তদন্ত বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন উপচাার্য।

তবে সিনিয়র শিক্ষকরা বলছেন, ৭৩ এর অধ্যাদেশের কথা উল্লেখ করে বেআইনি, ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠন করার এখতিয়ারই নেই এসব বলে প্রকারান্তে উপাচার্য সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইউজিসি না হয়ে সরকার (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষামন্ত্রণালয়) এ তদন্ত করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মানহানিকর হতো।

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, সরকার আদিষ্ট হয়ে ইউজিসি এ তদন্ত করেছে। অভিযোগকারীদের সব অভিযোগ সত্য নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার (উপাচার্যে) উচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া। কিন্তু সেটি না করে এটাকে (তদন্তের শুনানি) অবৈধ, ৭৩ এর অধ্যদেশের কথা বলে প্রকারান্তে সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করে বসেছেন উপাচার্য। শুনানিতে অংশ না নেওয়ার মাধ্যমে উপাচার্যের নৈতিক পরাজয় হয়েছে বলেও মনে করেন আওয়ামীপন্থী এ শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক আবুল কাশেম মনে করেন শুনানিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অংশ না নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ‘লস অব ফেস’ হতে পারে। তিনি বলেন, ইউজিসির তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের ভাষ্যমতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশিত হয়ে ইউজিসি এ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউজিসির মাধ্যমে না করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা শিক্ষামন্ত্রণালয় এই তদন্ত কমিটি গঠন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তা অধিকতর মানহানিকর হতো বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে অভিযোগকারী শিক্ষকরা বলছেন, তারা শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির যে জিজ্ঞাসা ছিল তার উত্তর দিয়েছেন। এখন তদন্ত কমিটি তাদের মতো করে কাজ করবেন। শুনানিতে অংশ নেওয়া চার সদস্যের একজন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান চৌধুরী। তিনি বলেন, শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছি। তদন্ত কমিটির যে ‘কোয়ারি’ ছিল তার উত্তর দিয়েছি। এখন তদন্ত কমিটি তাদের কাজ করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ