‘মিন্নিসহ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশে ন্যায়বিচার হয়েছে’

Send
বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত : ২০:২০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৩, অক্টোবর ০১, ২০২০

মিন্নি

‘বিজ্ঞ আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি এবং আমার পরিবার সন্তুষ্ট। আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মিন্নিসহ যে ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। এই রায় যাতে দ্রুত কার্যকর করা হয় সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বুধবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পরে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন নিহত রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

তিনি আরও বলেন, আমি শুরু থেকে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে আসছি। সেই সঙ্গে যারা নিরপরাধী তারা যেন এই মামলায় সাজা না পায় সে কথাও বলেছি। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। অপরাধীদের সাজা দিয়েছেন, নিরপরাধীদের মুক্তি দিয়েছেন।

মিন্নির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিন্নির জন্যই আজ এতগুলো পরিবার মামলার বোঝা নিয়ে ঝুলছে। আমার ছেলেকে হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী মিন্নি। ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

চার আসামির মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আমি কোনও নিরপরাধকে ফাঁসাতে চাই না। আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। ছেলে হারানোর যন্ত্রণা আমি জানি, তাই কোনও বাবা যেন বিনা কারণে তার সন্তানকে হারিয়ে কষ্ট না পায় আমি সেটাই চেয়েছি। আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দুলাল শরীফ

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। ওই হত্যাকাণ্ড সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ঘটনার পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ একে একে গ্রেফতার করে এজাহারভুক্ত আসামিদের। রিফাতের ওপর হামলার ছয়দিন পর ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয়দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চার্জ গঠন করেন। গত ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। গত ১৬ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ৩০ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করেন আদালত।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ