ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিলো লাখ লাখ মানুষ

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:২৪, অক্টোবর ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৬, অক্টোবর ১৮, ২০২০

নোয়াখালীর একলাশপুরের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন।



আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবসময় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছে বাংলাদেশ পুলিশ। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে আইন প্রয়োগে স্বতঃস্ফূর্ততারও অভাব নেই সংস্থাটির কর্মকর্তাদের। তারপরেও সাম্প্রতিক কিছু নৃশংস ঘটনার পর দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ ও র‌্যালিগুলোর আওয়াজ মেনে নিয়ে সরকার যখন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করলো তখন পুলিশের পরবর্তী ভূমিকার দিকে সবমহলের রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ। এই আইন কাযকর করার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে পুলিশকেই। দেখাতে হবে কঠোর মনোভাব। তবে আসামি ধরার চেয়ে আইনের কঠোরতাকে দেশবাসীর কানে পৌঁছে দিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) পুলিশবাহিনী দেশজুড়ে পালন করেছে এক অসামান্য কর্মসূচি। এমন অপরাধ যাতে আর না হয় তার জন্য জনগণের উপলব্ধি বাড়াতে এবং ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন, সহনশীল ও সতর্ক করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কর্মসূচি চালু করে সংস্থাটি। তাদের আহ্বানে সাড়া দেন লাখ লাখ মানুষ। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়ানো গেছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী মনোভাব ও আইনটির কঠোরতার মাত্রা।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সেই একলাশপুর ইউনিয়নের একলাশপুর ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিট পুলিশিং সমাবশের আয়োজন করা হয়। এতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ৯৫ শতাংশ মানুষ অসহায় হয়ে আছে, ৫ শতাংশ মানুষের অত্যাচারের কাছে। খারাপ মানুষের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে পারি না। তাই, পুলিশকে মানুষের কাছাকাছি যেতে হবে। পুলিশের কর্মের মাধ্যমে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিট পুলিশিং কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে। 

তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বিট পুলিশিং সমাবেশ এর আয়োজন করা হয়েছে। একলাশপুর ঘটনা জাতি হিসাবে আমাদেরকে লজ্জায় ফেলেছে। নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। সামাজিক যোগাযোগ এর মাধ্যমে ঘটনা ঘটার একমাস পরে সেই ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি আমাদেরকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সভ্যতা পরিমাপের যত মাপকাটি আছে তা বিবেচিত হয় ওই সমাজে নারীরা কতটুকু নিরাপদ। সে হিসেবে এখানে নারীদের জন্য নির্ভয়ের পরিবেশ তৈরিতে আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীর সংখ্যা গুটি কয়েকজন। এদেরকে শায়েস্তা করার জন্য পুলিশের পাশাপাশি জনগনকেও সচেতন হতে হবে। এদেরকে প্রতিহত করা কঠিন কাজ নয়। পুলিশের কাজ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।

তিনি বলেন, ৯৫ শতাংশ মানুষ অসহায় হয়ে আছে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের অত্যাচারের কাছে। কিন্তু, খারাপ মানুষের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে পারি না। তাই, পুলিশকে মানুষের কাছাকাছি যেতে হবে। পুলিশের কর্মের মাধ্যমে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিট পুলিশিং কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে।

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শেখ এর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন একলাশপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলম ভুঁইয়া, একলাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সালেহ আহম্মদ, একলাশপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহবুবুন নবী, বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরীফুল ইসলাম।

এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সুধীজন পুলিশের আহ্বানে হাত উঁচিয়ে ধর্ষণ  ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা ও বিট পুলিশকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। একইদিনে একই সময়ে জেলার অন্য বিটগুলোতেও একই ধরনের সমাবেশ হয়।

খুলনার কেন্দ্রীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। 

খুলনা প্রতিনিধি জানান, পুলিশের আহ্বানে খুলনায় ৫২টি বিটে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে শনিবার (১৭ অক্টোবর) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আহ্বানে মহানগরীর ৫২টি বিটে একযোগে পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিট এলাকার নারীদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সমাবেশে অংশ নেন।

সকালে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় চত্বরে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও ভূমিদস্যুদের সঙ্গে কোনও আপস হবে না। সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজ ও নারী ধর্ষণকারী যে দলের হউক কোনও ছাড় নয়। মাদক ও নারী ধর্ষণকারী দলের কেউ নয়। সরকার সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।

সিটি মেয়র আরও বলেন, সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। ধর্ষণকারীর শাস্তি ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশ হয়েছে। মাদকমুক্ত খুলনা গড়তে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, মাদক, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও নারী ধর্ষণকারীদের খুলনায় স্থান হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। যারা অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করেছেন তাদের জায়গা খালি করার জন্য অনুরোধ করেন মেয়র। তা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার এসএম শাকিলুজ্জামান এবং মাসুদ মাহমুদ। স্বাগত জানান ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফকির মো. সাইফুল ইসলাম। এসময় খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, যুবলীগের আহ্বায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, বিট পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও  অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  ৭ নম্বর বিট পুলিশিং এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এছাড়া খুলনা প্রযুক্তি ও প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দীন আহম্মেদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন, আওয়ামী লীগ নেতা বেগ লিয়াকত আলী ও সাজ্জাদুর রহমান লিংকন বিভিন্ন সমাবেশে বক্তৃতা করেন।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী পোস্টার, লিফলেট, প্ল্যাকার্ড নিয়ে জনসাধারণকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কেএমপি সূত্র জানায়, মহানগরীর খুলনা থানাধীন হেলাতলা, ওয়াপদা বেড়িবাঁধ, স্যার ইকবাল রোড, নিরালা দিঘিরপাড়, দোলখোলা, পিটিআই মোড়, ট্যাংক রোড, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, সোনাডাঙ্গা থানাধীন ১৯নং ওয়ার্ড, ২০ নং ওয়ার্ড, ২৫ নং ওয়ার্ড, ২৬ নং ওয়ার্ড, ১৬ নং ওয়ার্ড, ১৭ নং ওয়ার্ড ও ১৮নং ওয়ার্ড, লবনচরা থানাধীন নিজ খামার, সাচিবুনিয়া স্কুল ভিটা, জিরোপয়েন্ট, রিয়াবাজার, ৩১ নং ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয় ও পুঁটিমারী বাজার। হরিনটানা থানাধীন ১নং ওয়ার্ডের রাজবাধ, ৩নং ওয়ার্ডের হোগলাডাঙ্গা, কৈয়াবাজার, ইসলামনগর ও চক মাথুরাবাদ, রায়েরমহল, জিরোপয়েন্ট ও জয়বাংলার মোড়, খালিশপুর থানাধীন ৯নং, ১৪নং, ৭নং, ১৫ নং, ১৩নং, ১১নং, ১২নং, ১০ নং, ও ৮নং ওয়ার্ডে। দৌলতপুর থানাধীন ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে। আড়ংঘাটা থানাধীন শলুয়া, তেলিগাতি, রায়েরমহল ও আড়ংঘাটা, খানজাহান আলী থানাধীন অ্যাজাক্স জুটমিল ক্লাব, ফুলবাড়ি পুলিশ বক্স, যোগীপোল রেল গেট, শিরোমণি, গিলাতলা পাকার মাথা, আফিলগেট এলাকায় বিট-পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দিনাজপুরের একটি বিট পুলিশ সমাবেশ 

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, হাত উঁচিয়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৩টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী।

শনিবার দুপুরে জেলার ১০৩টি ইউনিয়নের ১৩১টি স্থানে একযোগে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে একত্রে জনমত ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হাত উঁচিয়ে এই প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শনিবার একযোগে এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বিট পুলিশিং কমিটি আয়োজিত নারী নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।

আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, পুলিশের আস্করপুর বিট কর্মকর্তা সেলিমুর রহমান, খানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোকছেদুল হক, প্যানেল চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন, যুব মহিলা লীগের জাকিয়া চন্দনা প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, একযোগে জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৩টি ইউনিয়নের ১৩১টি স্থানে এই সমাবেশ করা হচ্ছে। পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ১৩১টি স্থানে কমপক্ষে ৬৫ হাজার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী হাত উঁচিয়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।

সমাবেশে বলা হয়, একত্রে জনমত ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে সমাজে এই জঘন্য অপরাধ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে। সন্তানকে সঠিকভাবে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এই ধরনের অপরাধ দূর করতে শুধু পুলিশ কিংবা প্রশাসন নয় স্থানীয়ভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এর থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

এর আগে সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সকাল থেকে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। প্রতিটি ইউনিয়নে ৬ শতাধিক নারী পুরুষ সমাবেশে হাত উঁচিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

সমাবেশে পুলিশ সুপার বিট পুলিশিং কর্মসূচি সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করেন। পুলিশ সুপার বলেন, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবার চেষ্টা করে

যাচ্ছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতা পাচ্ছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে আইনের ফাঁক গলে অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কথা হচ্ছে এর থেকে নিস্তার পেতে হবে আমাদের। আর এর জন্য আমাদের প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সেই সাথে আপনার আমার সন্তান কী করছে, কার সাথে মিশছে, অপ্রয়োজনে কতক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকছে, পড়াশুনা ঠিকমত করছে কিনা, স্কুল-কলেজ যাচ্ছে কিনা এর দেখভালের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সকল সময়ের জন্য আপনাদের পাশে ছিল, পাশে থাকবে। যদি আপনাদের মেয়ে সন্তানকে কেউ উত্যক্ত করে কিংবা অশালীন অশোভন আচরণ করে তাহলে পুলিশকে

অবহিত করবেন। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।  তবে খেয়াল রাখতে হবে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে যেন ষড়যন্ত্রের মধ্যে না ফেলানো হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আয়োজিত র‌্যালিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অংশ নেন সুধীজন ও শিক্ষার্থীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে টাউনক্লাব মিলনায়তনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জেলার মোট ৯১টি স্থানে ও সদর উপজেলার মোট ২২টি স্থানে এই বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের রির্জাভ ফোর্সের কমান্ড্যান্ট এসপি শেখ মো. মিজানুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিম উদ-দৌলা চৌধুরী। এছাড়াও সমাবেশে জনপ্রতিনিধি, সুধী সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন,‘সমাজ থেকে ধর্ষণ দূর করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সম্মিলিতভাবে সমাজ থেকে ধর্ষণ দূরীকরণে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।’

এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে থেকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে টাউনক্লাব মিলনায়তনে সমাবেশে মিলিত হয়। 

জামালপুরে বিট পুলিশিং সমাবেশ

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় জামালপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে জেলা পুলিশের আয়োজনে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সদর থানার (ওসি তদন্ত) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর এর সঞ্চালনায় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সীমা রানী সরকারের সভাপতিত্বে বিট পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোজাফর হোসেন (সিআইপি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উকিল বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ আকাশ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা বেগম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মাসুম রেজা রহিম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার সুজাত আলী ফকির,  সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন লিটা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা এবং জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। দেশের সেবা ও জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সর্বদা সর্বতোভাবে জনগণের পাশে রয়েছে পুলিশ।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী পোস্টার, লিফলেট, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে জনসাধারণকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

এছাড়াও জেলার মোট ৯১টি স্থানে ও সদর উপজেলা মোট ২২টি স্থানে এই বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সমাবেশ স্ব-স্ব বিটের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সমাবেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে জেলার সকল জন প্রতিনিধি, সুধী সমাজের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তরা নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে পুলিশ-জনতা এক হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বগুড়ায় বিট পুলিশিং সমাবেশ 

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, নারী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সারাদেশের মতো বগুড়ায় বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশের আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহরের শহীদ খোকন শিশু উদ্যানে এ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বিভিন্ন বিট এলাকার দুই সহস্রাধিক নারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীগণ ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী পোস্টার, লিফলেট, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে সকলকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞার সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জোহরা ওয়াহিদা রহমান, টিএমএমএস এর

নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম, বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন, দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন, বগুড়া বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, বগুড়া মহিলা ও শিশু অধিদফতরের উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম, প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জি, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ডালিয়া নাসরিন রিক্তা, মালতিনগর বকশিবাজার এলাহি জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা আব্দুল মতিন, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদত আলম ঝুনু এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মৌ মনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা যে কোনও মূল্যে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করায় তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তি দেবার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া নারী নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী।

মানিকগঞ্জে আয়োজিত বিট পুলিশিং সমাবেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। শনিবার সকালে পৌর এলাকার পশ্চিম দাশড়া বিট পুলিশিং কার্যালয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওই সমাবেশের আয়োজন করেন।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকবর আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীন, পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি হাবিবুর রহমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুভাষ চন্দ্র সরকার, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব সাহা, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কবি সালেহা ইসলাম, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাদিম ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকার প্রমুখ।

টাঙ্গাইলে বিট পুলিশিং সমাবেশ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি জনমুখী করতে, মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে টাঙ্গাইলে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বন্ধ হোক নারী নির্যাতন, নিশ্চিত হোক দেশের উন্নয়ন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানা ও ১৭ নং বিট যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। জেলা কমিউনিটি পুলিশিং-এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং-এর সভাপতি আনিছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রউফ খান রোকন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিনু আনাহলি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন। টাঙ্গাইল জেলায় ১৪৬টি বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। একইদিনে সকল বিটে একযোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পিরোজপুরে বিট পুলিশিং সমাবেশ 

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরের সব উপজেলার সব ইউনিয়নে একযোগে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে জেলার প্রধান কর্মসূচিটি ছিল  পিরোজপুর সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু চত্বরে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুনিরুজ্জামান নাসিম, পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বায়েজীদ হোসেন,পৌর কাউন্সিলর, সাদুল্লাহ লিটন, মিনারা মাহাবুব, নজরুল ইসলাম সিকদার,আ. হাই, হাফিজা আক্তার খুশী, খালেদা আক্তার হেনা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর মহিলা পরিষদের সভানেত্রী মনিকা মন্ডল ।

সমাবেশে অতিথিরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন রোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এছাড়াও ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত বিট পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন। গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাকসুদুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাদিসুর  রহমান।

নরসিংদীতে বিট পুলিশিং সমাবেশ

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, পুলিশের উদ্যোগে সারাদেশের মতো নরসিংদী জেলাজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ। জেলার ৭টি থানা এলাকার পৌরসভা ও ইউনিয়নের মোট ৮৬টি বিট পুলিশিং ইউনিটে একযোগে সকাল ১১টা থেকে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পুলিশ কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশগুলোতে “বন্ধ হোক নারী নির্যাতন, নিশ্চিত হোক দেশের উন্নয়ন" এই প্রতিপাদ্যের ওপর সচেতনতামূলক আলোচনা করেন বক্তারা।

এসময় বক্তারা নারীদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সিলেট এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ধর্ষকদের পক্ষে আদালতে কোনও আইনজীবী তাদের পক্ষে দাঁড়াননি। আমরা তাদের সম্মান জানাই। এভাবে দেশের প্রতিটি জেলায় আইনজীবীদের এই অবস্থান কামনা করছি। তাহলে অপরাধকারীরা নির্যাতন করতে সাহস পাবে না।

মৌলভীবাজারে পুলিশ-জনতা সমাবেশ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট এলাকাভিত্তিক পুলিশ জনতা সমাবেশ মৌলভীবাজার জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা পুলিশের আয়োজনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)।

মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হক এর সভাপতিত্বে ও  পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পরিমল চন্দ্র দে এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আবু সুফিয়ান।

পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ধর্ষণের শাস্তি এখন মৃত্যুদণ্ড, নারীদের সঙ্গে সহিংসতা করে কেউ পার পাবে না। তবে ধর্ষণের মতো যে কোনও অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যাবে না।

এছাড়া নারীর নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রতিটি পরিবার এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষণকারীদের সমাজে তাদের কোনও স্থান নেই। এ ব্যাপারে পুলিশ আরও আইনগত ব্যবস্থা

নেবে।  মানুষের সচেতনতার কারণে একাটুনা ইউনিয়নে গত ৭ বছরের মধ্যে নারী নির্যাতনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। একাটুনা ইউনিয়নের মতো মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধ করে মডেল উপজেলা করতে সকলের সহযোগিতা চান।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলার উত্তরমুলাইম মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শামছুল ইসলাম, সমাজসেবক মো. সিরাজুল ইসলাম, হাফিজ মাওলানা মইনুল হক চৌধুরী, সমাজসেবক আব্দুল হালিম, কলেজ ছাত্রী মারিয়া আক্তার পপি, স্কুল ছাত্রী আয়শা জান্নাত প্রমুখ।

একই সময়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলাসহ জেলার সাতটি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী পুলিশ জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পাবনায় বিট পুলিশিং সমাবেশ উপলক্ষে র‌্যালি। 

পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইনস মাঠে শনিবার নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি এবং প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, এবিএম ফজলুর রহমান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি, রানা গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস রানা, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শিবলী সাদিক প্রমুখ। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিট পুলিশিং এর সদস্যবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেন।

মেহেরপুরে বিট পুলিশিং উপলক্ষে উঠান বৈঠক  

মেহেরপুর প্রতিনিধি  জানান, সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুরের ২৭ বিট পুলিশিং কার্যালয়ে একযোগে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং প্রতিরোধকল্পে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার সকালে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ইউনিটের প্রায় ২ শতাধিক নারী-পুরুষ এক বৈঠকে অংশ নেন। মেহেরপুরের শ্যামপুর বিটে পুলিশ সুপার এ উঠান বৈঠকের সূচনা করেন।

পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আইন প্রণয়ন করেছেন। সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজে থেকে সচেতন হওয়া। গ্রামের মানুষকে সচেতন করে তোলা, নারীদের নিরাপত্তা এবং সুবিচারের লক্ষ্যে আমাদের এই বিট পুলিশিং কার্যক্রম। এছাড়াও তিনি বলেন, আমি আপনাদের সেবা করতে এসেছি। পুলিশি সহায়তা আপনাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে চলেছি।

এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সদর থানার ওসি শাহ দারা খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আরিফুল আনাম বকুল, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম।

শ্যামপুর বিট ইনচার্জ শরিফ হাবিব এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি।

নীলফামারীতে বিট পুলিমিং সমাবেশে আগতদের একাংশ

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, ‘নিরাপদ সমাজ গড়ি নারী নির্যাতন বন্ধ করি’ এই শ্লোগানে সারা দেশের ন্যায় নীলফামারী জেলায় একযোগে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশের আয়োজনে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত  জেলার ছয় উপজেলার ৬০টি ইউনিয়ন এবং ৪ টি পৌরসভার ৭৪টি বিটে একযোগে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নীলফামারী পৌর শহরের সরকার পাড়া ঈদগাঁও ময়দানে ১নং বিটের অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী, পৌরসভার কাউন্সিলর বাদশা আলমগীর, পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি নুর ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মান্নান, খ্রিষ্টান মিশনারী স্কুলের শিক্ষিকা ইতি বেগম, মাদ্রাসা শিক্ষক আরিফ আল মামুন, সদর উপজেলা হিন্দু মহাজোটর উপদেষ্টা হিরেম্ব কুমার রায়, জেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিন্নাত রেহানা সুরভী প্রমুখ।

সদর থানার জ্যেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক মো. সাহাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে ও উপ-পরিদর্শক মারুফ উল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

সমাবেশে বক্তরা নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং নির্যাতন, সন্ত্রাস, বাল্য বিয়ে, জুয়া, মাদককের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সমাবেশে এলাকাবাসীর উদ্দেশে সদর থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, জনতার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চায় পুলিশ। যে কোনও অপরাধ দমনে জনতার ভূমিকা অপরিহার্য। এজন্য পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।

জনতা যদি পুলিশকে তথ্য দিতে এক হাত এগিয়ে আসেন তাহলে আমার পুলিশ জনতাকে সেবা দেওয়ার জন্য ১০ হাত এগিয়ে যাবো।

পুলিশের সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কাজ। অপরাধ যাতে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা যায় সে জন্য সারাদেশে বিট পুলিশিং গঠন করা হয়েছে। এই বিট পুলিশিং সেবার মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে এখন পুলিশের অবস্থান। যার ফলে অপরাধ প্রবণতা যেমন কমে আসবে, তেমনি সামাজিক শৃঙ্খলা বিরাজ করবে।

হিলিতে বিট পুলিশিং সমাবেশ

হিলি প্রতিনিধি জানান, ‘আপনার পুলিশ আপনার পাশে’ এমন স্লোগান নিয়ে দিনাজপুরের হিলিতে নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ ও সচেতনতামূলক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় হাকিমপুর থানার বিট পুলিশিং-২ এর আয়োজনে হিলির মাদক অধ্যুষিত এলাকা চুড়িপট্টির সুর্যমুখি ক্লাব এন্ড লাইব্রেরিতে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করা হয়, মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারও একইস্থানে গিয়ে শেষ হয়। একইসঙ্গে বিট পুলিশিং ইউনিটের উদ্যোগে পৌরসভার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ধরনের ৬টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল নাহার, পৌরমেয়র জামিল হোসেন চলন্ত, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফেরদৌসি বেগম, এসআই রকিবুলসহ বিট পুলিশিং ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ জড়িত হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

টেকনাফে বিট পুলিশিং সমাবেশ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, ‘নিরাপদ দেশ গড়ি, নারী নির্যাতন বন্ধ করি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজারের টেকনাফে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় টেকনাফেও  স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই সমাবেশ আয়োজন করে থানা পুলিশ।

শনিবার (১৭ অক্টোম্বর) সকালে শনিবার সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টেকনাফ পৌরসভার শাপলা সত্বরে যুবলীগের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে ওসি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম। এতে অসখ্য নারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইচ চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাবেদ ইকবাদ চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহামুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুন্না ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহীন প্রমুখ।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডেরর বিধান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সকল পিতা-মাতার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আপনার সন্তান প্রতিদিন কোথায় যায় সেটি খোঁজ নিন। কার সঙ্গে মেশে সেটির প্রতি নজর দিন। ধর্ষণ ও নির্যাতন ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ রুখে দাঁড়াতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’
টেকনাফ একটি পর্যটন শিল্প এলাকা জানিয়ে ওসি বলেন, ‘বিশেষ করে এই সীমান্তে মাদকমুক্ত করা পুলিশের পক্ষে একা সম্ভব না। মাদক মুক্ত করতে জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে।’

নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন রোধে সামাজিক পরিবর্তন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘আজ থেকে বিট পুলিশিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ এলাকায় বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন রুখতে গ্রামে গ্রামে জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ জনগণকে সামাজিকবোধ থেকে এক যোগে কাজ করতে হবে। পাশপাশি কোনও মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে নজর রাখতে পুলিশকে অনুরোধ জানান তিনি।

/টিএন/

লাইভ

টপ