শেষ সময়ের ব‌্যস্ততায় প্রতিমা শিল্পীরা

Send
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:১৭, অক্টোবর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৭, অক্টোবর ২০, ২০২০

শেষ সময়ের ব‌্যস্ততায় প্রতিমা শিল্পীরাআগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) মহাপঞ্চমী। দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। এ উৎসবকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ জেলার পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা গড়ে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। তবে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গা পূজা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

মন্দিরগুলোয় চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমা শিল্পীরা রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেব-দেবীর অবয়ব। গতবছর জেলায় ৪০৪টি মণ্ডপে পূজা হয়েছিল। তবে এবার করোনার কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬৮টিতে। নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ দুর্গোৎসব সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন আয়োজকদের সঙ্গে। দেবী দুর্গার আর্শীবাদে করোনা মহামারি থেকে মুক্ত হবে বিশ্ব। সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে দেশ।

শেষ সময়ের ব‌্যস্ততায় প্রতিমা শিল্পীরা

প্রতিবছর দুর্গা পূজায় যে জাঁকজমক থাকে এবার তা অনেকটাই অনুপস্থিত। করোনার কারণে ম্লান হয়ে গেছে সেই চির চেনা উৎসবের আমেজ। সবখানে অনাড়ম্বর পরিবেশে পূজা উদযাপনের আয়োজন। এরই মধ্যে বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ শেষ করেছেন শিল্পীরা। শুরু হয়েছে রঙের প্রলেপ দেওয়া। রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অবয়ব।

পূজা মণ্ডপের আয়োজকরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়োজন শেষ করতে রাতদিন কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। তবে এ বছর আগের মতন মণ্ডপে তেমন কোনও শোভাবর্ধনের কাজ করা হবে না। ধর্মীয় নিয়মের মধ‌্যে আয়োজন সম্পন্ন হলেও হয়তো করোনার প্রভাবে আনন্দে কিছুটা ঘাটতি থাকবে। তবে করোনার কারণে কমে গেছে প্রতিমা শিল্পীদের কাজ। আয়-রোজগারও কমে গেছে তাদের। প্রতিমা তৈরি পেশা হলেও আগের মতো আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছে না তারা।

শেষ সময়ের ব‌্যস্ততায় প্রতিমা শিল্পীরা

প্রতিমা কারিগর দিলীপ পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরিই আমাদের কাজ। প্রতিবছর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির করেই আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে হয়। কিন্তু মৃৎশিল্প পেশা হলেও আগের মতো আর্থিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এমনিতেই করোনার প্রভাব, তার ওপর প্রতিমা তৈরিতে যেসব জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় তার দামও অনেক বেশি।’ তিনি সরকারের কাছে মৃৎশিল্পীদের প্রণোদনার মাধ‌্যমে সহযোগিতার দাবি জানান।

জেলা সদর কালী বাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক পলাশ দত্ত রায় জানান, দুর্গা পূজায় স্বাস্থ্যবিধির কারণে শোভাযাত্রা, প্রসাদ বিতরণ ও আরতিসহ জমাকালো অনুষ্ঠান না থাকলেও পূজার ধর্মীয় পর্ব গুলোর কোনও ঘাটতি থাকবে না। তাই শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে সব মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

শেষ সময়ের ব‌্যস্ততায় প্রতিমা শিল্পীরা

জেলা ও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ‌্যবিধি ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে আয়োজকদের সঙ্গে। গঠন করা হচ্ছে নানা রকম কমিটি। প্রতিটি মণ্ডপের পূজা নির্বিঘ্নে রাখতে পুলিশ, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ