‘জমি নিয়ে বিরোধেই কটিয়াদীতে ৩ খুন’

Send
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৩০, অক্টোবর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৮, অক্টোবর ৩০, ২০২০




কটিয়াদীতে বাড়ির পাশের এই গর্ত থেকেই বাবা-মা ও সন্তানের লাশ উদ্ধার হয়কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিন খুনের ঘটনায় নিহত আসাদের ছোট ভাই দীন ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাই আসাদ, ভাবি পারভিন ও ভাতিজা লিয়নকে তিনি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কটিয়াদী থানার ওসি এমএ জলিল এ তথ্য জানান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহত আসাদের ছোট ভাই দীন ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। জমি নিয়ে বিরোধেই তিনি তিন জনকে শাবল দিয়ে হত্যা করেন বলে তথ্য দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীন ইসলাম আমাদের কাছে স্বীকার করেছে সে নিজেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে জায়গা জমির ঝামেলা নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে শাবল দিয়ে বড় ভাইকে আঘাত করে মেরেছে, পরে তার ভাবিকে হত্যা করে। সবশেষে তাদের ৮ বছরের শিশু সন্তান লিয়নকে হত্যা করে। পরে বসতঘরের পেছনে গর্ত করে তাদের মাটিচাপা দেয়।’

তবে এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান তদন্তের আগে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, দীন ইসলামের বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। এ কারণে ভাই আসাদের কাছে তার জমি বিক্রি করেন। কিন্তু এ টাকা নষ্ট করে ফেলায় তার আর বিদেশ যাওয়া হয়নি। এরপর থেকে সে তার জমি ফেরত দেওয়ার জন্য ভাই আসাদকে চাপ দিতে থাকে। এতে আসাদ রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হয়। মা ও বোনেরাও আসাদের বিপক্ষে অবস্থান নেন।

স্থানীয় বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, জমিজমার বিরোধে আপন ভাইকে প্রায় সপরিবারে হত্যার বিষয়টি স্থানীয়রা কিছুতেই মানতে পারছেন না।

এদিকে তিন খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই কটিয়াদী থানা পুলিশ দীন ইসলাম, মা জুমেলা বেগম, বোন নাজমা ও ভাগ্নে আল-আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দীন ইসলাম একাই তিন জনকে শাবলের আঘাতে হত্যা করেন বলে তথ্য দেন। এদিকে নিহত তিন জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর জামষাইট গ্রামে তাদের দাফন করা হবে।

আসাদের মেজো ছেলে মোফাজ্জল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি নানুবাড়ি ছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে এসে বাবা-মাকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ-খবর নিই। পরে ঘরে রক্তের দাগ দেখে ও লাশ সরিয়ে নেওয়ার দাগ দেখে ওই গর্তের সন্ধান পায় তারা। পরে কটিয়াদী থানায় গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করে প্রকৃত হত্যাকারী চিহ্নিত করতে পারবো। ইতোমধ্যে নিহতের বড় ছেলে তোফাজ্জল বাদী হয়ে কটিয়াদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। জড়িত সন্দেহে আমরা চার জনকে গ্রেফতার করেছি।

আরও পড়ুন:
কটিয়াদীতে একই গর্তে মিললো বাবা-মা ও সন্তানের লাশ

 

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ