চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে পানিবাহিত ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৪দিনে ১৭০ জন ডায়রিয়া রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৭ জন। বাকিদের চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি।
অন্যদিকে, চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও বদলীর ঘটনায় চিকিৎসকরা বুধবার থেকে ৩ ঘণ্টা করে দুইদিনের কর্মবিরতি শুরু করায় ডায়রিয়া রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আয়েশা জুলেখা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মসজিদপাড়া, পিটিআই বস্তি, ইসলামপুর, কালিতলা ও আলীনগর এলাকায় হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিলে হাসপাতালে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে প্রতিদিনই ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসকরা বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এনিয়ে গত ৪ দিনে ১৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ১৩০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা নূর হোসন, তানজিলা ও নিকা বেগম জানান, পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি খাওয়ার পর থেকে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে তারা হাসপাতালে ভর্তি হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. প্রধান আবুল কালাম আজাদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে। ইতিমধ্যে পৌরসভার সরবরাহকৃত নমুনা পানি সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালী রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে তারা কাজ শুরু করবেন।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৫ নং ওয়ার্ডের পাইপ লাইন পরিষ্কার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ডায়রিয়া থেকে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য পরামর্শমূলক প্রচারণা মাইকিং এর মাধ্যমে শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: রিমান্ড শেষে মেয়র মান্নান কারাগারে
/জেবি/টিএন/আপ-এআর/







