অসহ্য গরমে নাকাল মাগুরাবাসী। গরমে হাসপাতালে রোগীদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছে শান্তির আশ্রয়। গভীর রাত পর্যন্ত নদীর ধারে বা ময়দানে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
গত ৮ দিন মাগুরায় বৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা। অতিরিক্ত গরমে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেকেই। ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ রোগী আসায় স্থান সংকুলান করা যাচ্ছে না বলে জানান চিকিৎসকরা। বাধ্য হয়ে রোগীদের থাকতে হচ্ছে বরান্দায়। এতে করে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রিয়াজুল ইসলাম বলেন,‘আমি গরমে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। বাড়ির লোকজন আমাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমি বারান্দায় শুয়ে আছি। এখানে এভাবে থাকলে আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়বো।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিন মিয়াজী বলেন,‘প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী আসছে। আমাদের ২৫০ শয্যা এখনো প্রস্তুত হয়নি। বাধ্য হয়ে পুরাতন ভবনে রাখতে হচ্ছে রোগীদের। বেশিরভাগ রোগীকেই রাখতে হচ্ছে বারান্দায়। গরমে বয়ষ্ক এবং শিশু দু’ধরনের রোগী বেশি আসছে। শিশুরা ডায়রিয়া বা কলেরায় এবং বয়ষ্করা হিট স্ট্রোকের শিকার হচ্ছেন বেশি।
এদিকে গরমে শহরবাসীর ভোগন্তি চরমে। জরুরি কাজ না থাকলে তারা দিনে বের হচ্ছেন না। আবার সন্ধ্যার পর থেকে স্বস্তির আশায় নোমানী ময়দান, কালেক্টরেট মাঠ এবং গভীর রাত পর্যন্ত মাগুরার শেখ কামাল ব্রিজে ভিড় জমাচ্ছে শহরবাসী।
শহরের তাতী পাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন,‘সন্ধ্যায় বাড়ি থাকতে পারছি না। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বসে আছি শেখ কামাল ব্রিজে।’
পারনান্দুয়ালী এলাকার মিরাজ হোসেন বলেন,‘সন্ধ্যা থেকেই শেখ কামাল ব্রিজে এসে অনেকেই বসছেন। তবে তারাবিহ নামাজের পর ভিড় বাড়তে থাকে। মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত এখানে ভিড় জমাচ্ছে।’








