নাটোরে মাসকলাইয়ের ডাল ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এদিকে পাকতে শুরু করেছে চাল কুমড়ো। এই দুই প্রধান উপাদানের সমন্বয়ে এখন নাটোরের গ্রামে গ্রামে চলছে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম।
অনেকে ব্যবসার জন্য বড়ি তৈরি করছেন। কেউ আবার নিজেরা খাওয়ার জন্য বাড়িতে কুমড়ো বড়ি দিচ্ছেন। ফলে একদিকে যেমন আয় ও কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক পরিবারের, অন্যদিকে মিটছে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক জানান, বিভিন্ন স্থানে তৈরি হচ্ছে কুমড়ো বড়ি। এর প্রধান উপাদান মাসকলাই আর পাকা কুমড়ো। সঙ্গে কালোজিরা আর পাঁচফোড়নও ব্যবহার করেন অনেকে। তবে অনেকে কুমড়োর পরিবর্তে বাঁধাকপিও ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, ‘কুমড়ো বড়ি আদিকাল থেকেই তৈরি হয়ে আসছে। এটা গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক শিল্প। এই বড়ি বিক্রি করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারও মানুষের। এছাড়া মাসকলাই মূলত প্রোটিন জাতীয় খাবার। এর সঙ্গে কুমড়ো বা বাঁধাকপিসহ অন্যান্য উপাদান দেহের বিভিন্ন খনিজ পদার্থসহ পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে।’
কুমড়ো বড়ির ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহমুদুল ফারুক জানান, অনেকে এখন অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুমড়ো বড়ি বিক্রি করছেন। এই বড়ি জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ছাড়াও জেলার বাইরে বিক্রি হচ্ছে।
নাটোরের মাধনগর, পালপাড়া ও লালপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় দেখা যায়, কুমড়ো বড়ি শুকাতে দেওয়া হয়েছে।
নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর বাজারের ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, তিনি অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে কুমড়ো বড়িও বিক্রি করেন। চাহিদাও প্রচুর।
তিনি আরও বলেন, একসময়ের শখের খাবার কুমড়ো বড়ি এখন শত শত মানুষের কর্মসংস্থান ও প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। আমরা প্রতি কেজি কুমড়ো বড়ি বিক্রি করছি ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে।
সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া এলাকার শিক্ষক মাসৌরা বেগম কাকলী জানান, তিনি পরিবারের জন্য প্রতি বছরই কুমড়ো বড়ি তৈরি করেন। মায়ের কাছ থেকে কুমড়ো বড়ি তৈরি করা শিখেছেন। এ বছরও তৈরি করেছেন তিনি।









