X
শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪
১২ বৈশাখ ১৪৩১

বৃত্তির সংশোধিত ফলে বাদ পড়লো এক বিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
০৩ মার্চ ২০২৩, ০৯:৪৭আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩, ০৯:৪৭

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসে মাত্র একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল- তাও ১৫ বছর আগে। এরপর বিদ্যালয়টি থেকে আর কোনও শিক্ষার্থী এই গৌরব অর্জন করতে পারেনি। এবার বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম প্রকাশিত ফলে এখানকার তিন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ছিল। এতে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা আনন্দিত হয়েছিলেন। তবে তাদের আনন্দ থাকেনি বেশি সময়। প্রথম প্রকাশিত ফল স্থগিতের পর দেওয়া সংশোধিত ফলে তিন জনই বাদ পড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা।

বাদ পড়া তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বলেছেন, সন্তানদের কৃতিত্বে আমরা উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম। এখন আমরা ও আমাদের সন্তানরা লজ্জা পাচ্ছি। ঘটনাটি আমাদের সন্তানদের কোমল মনে বড় দাগ কাটলো।

রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি থেকে এক শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল। এরপর আর কেউ বৃত্তি পায়নি। এবার বিদ্যালয়ের ছয় জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। মঙ্গলবার প্রথম প্রকাশিত ফলে সাধারণ গ্রেডে ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর রোল ছিল এই স্কুলের তিন শিক্ষার্থীর যথাক্রমে আব্দুল্লাহ আল জিসান, সাখাওয়াত হোসাইন সৌরভ ও আমিন শিকদারের। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ায় গ্রামবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা সবাই খুশি হয়েছিলেন। ফলাফল প্রকাশের পর অভিভাবকরা আনন্দে মিষ্টিও বিতরণ করেছিলেন। তবে প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ ফল স্থগিত করা হয়। বুধবার রাতে ফের সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে সেখানে বিদ্যালয়টির তিন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর নেই।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জিসান ও তার বাবা আব্দুল করিম প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের কাছে এসেছেন। তিনি প্রধান শিক্ষককে বলছিলেন, স্যার রাতে খবর পেয়ে আমাদের পরিবারের কারও চোখে ঘুম আসেনি। ছেলেকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। তখন প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান ও অন্য শিক্ষকেরা নির্বিকার হয়ে ছিলেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল করিম বলেন, আমি নিজেকেই মানাতে পারছি না। আমার ছেলেকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব। ফলাফলের খবর জানার পর আমরা কেউ রাতে ঘুমাতে পারিনি। এটা আমার ছেলের কোমল মনে দাগ কাটলো।

রোয়াইড় গ্রামের বাসিন্দা ও আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, দীর্ঘ দিন পর আমাদের বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর বৃত্তি পাওয়ায় আমরা সবাই খুশি হয়েছিলাম। সংশোধিত ফলাফলে জানলাম তিন জনের কারও তালিকায় নাম নেই। এটা কষ্টের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার স্থগিত করা ফলের তালিকায় আমাদের বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর সাধারণ গ্রেডে ছিল। বুধবার রাতে প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় ওই রোল নম্বর গুলো নেই।

জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ হয়েছে। কে বাদ পড়লো কে যোগ হয়েছে তা এখন বলা যাচ্ছে না।

/এফআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ককে দল থেকে বহিষ্কার
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ককে দল থেকে বহিষ্কার
সড়কে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলের
সড়কে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলের
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে চান রাশেদুল মাজিদ
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে চান রাশেদুল মাজিদ
আগুন নেভাতে ‘দেরি করে আসায়’ ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলা, দুই কর্মী আহত
আগুন নেভাতে ‘দেরি করে আসায়’ ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলা, দুই কর্মী আহত
সর্বাধিক পঠিত
দুদকের চাকরি ছাড়লেন ১৫ কর্মকর্তা
দুদকের চাকরি ছাড়লেন ১৫ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি ছাড়লেন ৫৭ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি ছাড়লেন ৫৭ কর্মকর্তা
স্কুল-কলেজে ছুটি ‘বাড়ছে না’, ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি
স্কুল-কলেজে ছুটি ‘বাড়ছে না’, ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি
কেন গলে যাচ্ছে রাস্তার বিটুমিন?
কেন গলে যাচ্ছে রাস্তার বিটুমিন?
ধানের উৎপাদন বাড়াতে ‘কৃত্রিম বৃষ্টির’ পরিকল্পনা
ধানের উৎপাদন বাড়াতে ‘কৃত্রিম বৃষ্টির’ পরিকল্পনা