বগুড়ার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) আলোচিত অধ্যক্ষ ডা. আমায়াত-উল-হাসিন ঝিমলিকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসের সই করা আদেশে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ব্যাপারে ডা. ঝিমলি কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়া আইএইচটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ও তদন্ত কমিটির সুপারিশে ডা. আমায়াত-উল-হাসিন ঝিমলিকে বাগেরহাটের ম্যাটসের সিনিয়র লেকচারার হিসেবে বদলি করা হয়। একইসঙ্গে তাকে মাদারীপুরের ম্যাটসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আইএইচটির সিনিয়র লেকচারার ওমর ফারুক মীরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ওই বদলির এই আদেশে আরও বলা হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে বদলিকৃত স্থানে যোগদান করতে হবে। না হলে আট কার্যদিবসে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন।
সূত্রটি আরও জানায়, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল কুমার ঘোষ ছাত্র না হয়েও প্রায় এক যুগ ঘরে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসের ২১৮ নম্বর কক্ষ দখলে রাখেন। সেখানে তিনি ভর্তি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, অসামাজিক কার্যকলাপসহ নানা অপরাধ করেন। অধ্যক্ষ ডা. ঝিমলির বিরুদ্ধে তাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠে।
সজল ঘোষকে গ্রেফতার ও অধ্যক্ষ ডা. ঝিমলিকে অপসারণের দাবিতে আইএইচটি’র শিক্ষার্থীরা গত ২৯ আগস্ট থেকে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সর্বশেষ গত রবিবার বেলা ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সামনে শেরপুর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রলীগ ক্যাডার সজল ঘোষকে গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবি আদায়ের আশ্বাস দেন। তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
এদিকে অধ্যক্ষ ডা. ঝিমলির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদফতরের অল্টারনেটিভ মেডিসিন বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. গউসুল আজিম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ঢাকা আইএইচটি’র সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান ও বগুড়া আইএইচটি’র জুনিয়র প্রভাষক ডা. আব্দুল কাদের।
সোমবার তারা তদন্ত করতে বগুড়া আইএইচটিতে আসেন। দিনভর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। ১১ জন শিক্ষার্থীর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।
কমিটির সদস্যরা জানান, শিগগিরই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেবেন। সন্ধ্যার দিকে আইএইচটি’র অধ্যক্ষ ডা. ঝিমলিকে বদলির সংক্রান্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসের সই করা আদেশ আসে। এ খবরে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দেয়। তবে সজল কুমার ঘোষ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা রয়ে গেছে।








