বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের নাম ভাঙিয়ে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে দই ও মিষ্টি নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে যেকোনো ধরনের অপকর্ম রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে ও বিকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। দুই পক্ষই একে অপরকে ‘ভুয়া সমন্বয়ক’ বলে দাবি করেছে।
সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে শহরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের নাম ভাঙিয়ে বিনামূল্যে দই-মিষ্টি নেওয়া–সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করা দুজনকে ডেকে নিয়ে দই-মিষ্টির মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এরপর দুপুরে ও বিকালে সংবাদ সম্মেলন ডাকে দুই পক্ষ।
দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি অংশ। নিজেদের জেলা সমন্বয়ক দাবি করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্রফ্রন্ট জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিয়তি সরকার। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাহিন সরকার অনুমোদিত ১৭ সদস্যবিশিষ্ট বগুড়া জেলা কমিটি আছে। কমিটিতে সাত সমন্বয়ক ও ১০ জন সহ-সমন্বয়ক। এর বাইরে বগুড়ায় কোনও কমিটি নেই। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে নামধারী কতিপয় অসাধু চক্র বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। কেউ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে কোনও চাঁদা দাবি করলে সেনাবাহিনীর টহল দলকে তাৎক্ষণিক খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করা সাকিব খান। তিনি নিজেকে গাবতলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী দাবি করেন। এশিয়া সুইটমিট নামের প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে দই-মিষ্টি নেওয়ার কথা স্বীকার করে সাকিব খান বলেন, ‘শুক্রবার বাকিতে ৩০ সরা দই ও ১০ কেজি মিষ্টি নিয়েছিলাম। শনিবার সেই টাকা পরিশোধ করেছি আমরা।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিয়তি সরকার বলেন, ‘সাকিব খান শহরের এশিয়া সুইটমিট থেকে দই-মিষ্টি কেনেন। এ সময় কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে ঘেরাও করে ভয়ভীতি দেখান। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ভিডিও প্রচার করেছেন। ওই ঘটনার পর সাকিব খান ও আমাকে জিলা স্কুলে তুলে নিয়ে গায়ে হাত তুলেছেন কয়েকজন যুবক। তারা মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেছেন। যারা আজ আমাদের বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তারা মিথ্যা প্রচারণা করছেন। এগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক নাজমুল হাসান নেহার, সৈকত আলী, আজিম উদ্দিন, জাকিরুল ইসলাম, সাব্বির আহমেদ রাজ, সহ-সমন্বয়ক হানজেলা রহমান নাহিন, আবদুল মোমিন, গোলাম রব্বানী, আল হাদিদ, মারচক হোসেন তামিম, আহসান হাবিব, আবদুল্লাহ আল আরাফাত ও বৃষ্টি খাতুন প্রমুখ।
অপরদিকে, বিকাল ৪টায় সাতমাথায় সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বগুড়া আদালতের আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী। জনগণের বিজয়কে ম্লান করতে অশুভ তৎপরতা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বঘোষিত সমন্বয়ক পরিচয়ে নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চলছে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা। কথিত এই সমন্বয়করা বগুড়ার এশিয়া সুইটমিটের মালিককে ফোন করে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের নাম ভাঙিয়ে ৩০ সরা দই ও ১০ কেজি মিষ্টি নেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সুনাম নষ্ট করার এই তৎপরতার খবর ফাঁস হলে সাকিব খান নামের এক কথিত সমন্বয়ককে বগুড়ার শিক্ষার্থীরা আটক করে শনিবার সন্ধ্যায় এশিয়া সুইটমিটে নিয়ে দই-মিষ্টির মূল্য পরিশোধ করার পর ভুল স্বীকার করলে ছেড়ে দেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনও বৈধ কমিটি নেই। কেউ ভুয়া সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করলে তাকে সেনাবাহিনীর টহল দলের কাছে সোপর্দ করার অনুরোধ করছি।









