দেশে সারের কোনও সংকট নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে কোনও তারতম্য নেই। নন-ইউরিয়া সার, এই সিজনের পরের সিজনে যেটা লাগবে, রবি শস্যের জন্য, আলু, সরিষা, ভুট্টার জন্য, কিছু কৃষকের অগ্রিম মজুত করার জন্য, অগ্রিম কিনে রাখার জন্য একটু সমস্যা তৈরি হয়েছে।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কৃতী ছাত্রীদের মধ্যে সাইকেল, ফলজ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা বিতরণ এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশে চলমান সার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে কৃষকদের দুর্ভোগে ফেললে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও সার ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান জটিলতা ও বিতরণব্যবস্থার সমস্যা নিরসনসহ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নিজ নির্বাচনি এলাকায় সফরে এসে মীর শাহে আলম সার পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের যে চাহিদা, তার পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে। দেশের গুদামগুলোয় পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। সারের কোনও সংকট নেই। গত সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছেন। সার বিতরণ নিয়ে ডিলারদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে একটি পরিপত্র জারি হয়েছে। এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলাররাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। কোনও সার ডিলারকে বাতিল করা হচ্ছে না।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিছু কৃষক অগ্রিম সার কিনতে যাওয়ায় এবং দু-একজন ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন ও বিতরণ না করায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। যেসব ডিলার সার উত্তোলন বা বিতরণে দেরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে, সেসব ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
কৃষকদের আশ্বস্ত করে মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলারদের মাধ্যমেই কৃষকরা সার পাবেন। কোন ফসলের জন্য কখন কতটুকু সার প্রয়োজন, সেই হিসাব সরকারের কাছে রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম ও মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন প্রমুখ।









