ছয় মাসের সাজা এড়াতে পাঁচ বছর ধরে পলাতক ছিলেন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি। তিনি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে নাটোর লালপুর উপজেলার ধুপইল চকপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
একইসঙ্গে পৃথক অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্ত আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে এক ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাত মাসের সাজা এড়াতে পাঁচ বছর এবং মাদকের মামলায় দুই বছরের সাজা এড়াতে আট বছর পলাতক ছিলেন অপর ব্যক্তি। গ্রেফতারকৃতদের শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার ধুপইল চকপাড়া গ্রামের মজনু মিয়া, চক নাজিরপুর গ্রামের আবু কাওসার ও দক্ষিণ লালপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের পৃথক তিনটি মামলায় সাজা হয়েছিল। সাজা এড়াতে এই তিন ব্যক্তি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার দিবাগত রাতে এসব আসামিকে নিজ নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাননি এসব আসামি।’
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অর্থ আত্মসাতের মামলা করা হয় মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের ধুপইল চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ওই মামলায় ২০২১ সালে তাকে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সাড়ে সাত লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর থেকে পলাতক ছিলেন মজনু।
চক নাজিরপুর গ্রামের আবু কাওসারের বিরুদ্ধে পৃথক একটি অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলারও রায় ঘোষণা হয় ২০২১ সালে। মামলার রায়ে আসামি কাওসারকে সাত মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সাত লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রায়ের পর থেকে কাওসার দীর্ঘ পাঁচ বছর পলাতক ছিলেন।
মাদকের মামলায় দক্ষিণ লালপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে রায় দেন আদালত। রায়ে বেলালকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালতের এই সাজা এড়াতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি দীর্ঘ আট বছর পলাতক ছিলেন।
ওসি বলেন, সাজার রায়ের পর থেকে তিন আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তবে রাতের বেলা এসব আসামি নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন সংবাদ ছিল। সেই সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।